
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
বহুল প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠক নিয়ে মুখ খুলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলেই শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ওমানে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে, যা দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ছুটির কাটাতে ফ্লোরিডায় নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাবার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের বিষয়েও খুব ভালো আলোচনা করেছি। মনে হচ্ছে ইরান একটি চুক্তির জন্য খুব মরিয়া হয়ে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে আমরা আবারও বৈঠকে বসব।
এদিকে, শুক্রবার স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে তাদের ওপর তিনি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। আদেশে নির্দিষ্ট কোনো হার উল্লেখ না করা হলেও ২৫ শতাংশকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, যেসব দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি বা সংগ্রহ করবে, তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ট্রাম্প এই আদেশের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে কথা বলার সময় আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জন্য কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।
উভয় পক্ষের কয়েক সপ্তাহের হুমকির পর ওমানে মার্কিন ও ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যেই এই ঘোষণা এল। এর আগে বছরের শুরুতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সাথে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি দেন।
১২ জানুয়ারি তিনি লেখেন, অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে যে, ইরানের সাথে ব্যবসা করা যে কোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা সব ব্যবসার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। সে সময় এই শুল্ক কীভাবে কার্যকর হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সবশেষ নির্বাহী আদেশটি ইরান সংক্রান্ত চলমান জাতীয় জরুরি অবস্থা পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট এটি সংশোধন করতে পারেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে আমেরিকার নিরাপত্তা, মিত্র ও স্বার্থকে বিপন্নের জন্য ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করছেন।
এই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত বছরের জুনে ইরানর তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলার পর থেকে ওমানে শুক্রবার শুরু হওয়া এই আলোচনাটিই ছিল দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।
ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবারের আলোচনা খুব ভালো ছিল এবং ইরান একটি চুক্তি করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যদি তারা চুক্তিতে না আসে, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেন, এই বৈঠক ইরান ও আমেরিকার চিন্তাভাবনা স্পষ্ট করতে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে সহায়ক হয়েছে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাগচি এই আলোচনাকে একটি ‘ভালো শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন সেখানে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় ছিল। তিনি জানান, আলোচনার পর প্রতিনিধিরা পরামর্শের জন্য নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে গেছেন।
