রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

জাদুঘর ও পাঠাগারে আক্ষেপ পাঠক-দর্শনার্থী না পাওয়ার

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের পারিল গ্রামে ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে বই আছে অনেক, ভাষাশহীদের স্মৃতিস্মারকও আছে। তবে সেখানে খুব কমসংখ্যক পাঠক ও দর্শনার্থী আসেন।

মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং সিঙ্গাইর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এই ভাষাশহীদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয় পারিল গ্রামে। ভাষাশহীদের নামে এখন গ্রামটির নাম রফিকনগর। গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মাণে জমি দান করেন শহীদ রফিকের প্রতিবেশী কর্নেল (অব.) মজিবুল ইসলাম খান।

জাদুঘর থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ গজ দূরেই শহীদ রফিকের পৈতৃক ভিটা। ২০০০ সালে প্রশিকা মানবিক উন্নয়নকেন্দ্র সেখানে বাসগৃহ নির্মাণ করে দেয়। সেখানে থাকে শহীদ রফিকের ভাই প্রয়াত আবদুল খালেকের পরিবার। বাড়ির পাশে শহীদ মিনার।

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ভাষা–আন্দোলনের শহীদেরা গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ রফিক উদ্দিনের জন্ম ১৯২৬ সালে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের পারিল বলধার গ্রামে। বাবা আবদুল লতিফের প্রেসের ব্যবসার কাজে তিনি ঢাকায় থাকতেন। বায়ান্নর ২০ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত তিনি ছিলেন পুরান ঢাকার হাজী ওসমান রোডে ভগ্নিপতি মোবারক আলী খানের কাছে। পরদিন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে না যেতে তিনি রফিককে পরামর্শ দিয়েছিলেন। মোবারক আলী তাঁর মাথায় গুলি লাগার ঘটনা জানতে পারেন ওই দিন সন্ধ্যায়। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় বেলা দুইটায় গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পারেন। রফিক ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ। গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল।

ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে ভাষাশহীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের রফিকনগর গ্রামেছবি: আব্দুল মোমিন

১৬ হাজার বই, পাঠক নেই

গতকাল শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, জাদুঘর ভবনের সামনের দেয়ালে শহীদ রফিকের একটি ম্যুরাল, ভেতরে দুটি ছবিও আছে। গ্রন্থাগারের ভেতরে ১০টি আলমারিতে রয়েছে বিভিন্ন বই। গ্রন্থাগারিকের দায়িত্বে থাকা ফরহাদ হোসেন বলেন, বাংলা একাডেমি থেকে দেওয়া প্রায় ১৬ হাজার বই রয়েছে এখানে। তবে ভাষাশহীদদের নিয়ে লেখা খুব কমসংখ্যক বই রয়েছে। নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনিসহ তিনজন কাজ করেন এখানে। তাঁদের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। এ ছাড়া বেতনও সামান্য।

জাদুঘরে স্মৃতিস্মারক

জাদুঘরে ভাষাশহীদ রফিকের ব্যবহৃত লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, তাঁর পরিবারের চারটি চেয়ার, একটি টেবিল ও একটি টেবিল ক্লথ রয়েছে। ২০০০ সালে পাওয়া শহীদ রফিকের একুশে পদকের সম্মাননা স্মারকও রয়েছে সেখানে। মোহসীন মোহাম্মদ মাতৃক নামে একজন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে একবার এখানে এসেছিলাম। এবার এসে ভাষাশহীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখে ভালোই লেগেছে।’

জাদুঘর দেখভালকারী মো. শাহজালাল বলেন, এলাকার ছাত্রছাত্রীরা ভাষাশহীদের ব্যবহৃত পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, চেয়ার-টেবিল দেখতে আসে। তবে ভাষাশহীদ রফিকের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘এটার নাম জাদুঘর হলেও জাদুঘরে কী কী থাকার কথা তা সরকার এবং আমরাও বুঝি। জাদুঘরে যা থাকার কথা, তা নেই। দর্শনার্থীরা এলেও তেমন কিছু না থাকায় আগ্রহ হারিয়ে চলে যান।’

সর্বাধিক পঠিত