চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের একটি অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ এই অংশ প্রশস্ত হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে। তবে পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চুনতি এলাকায় পৃথক দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন।
সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে তিনটি প্যাকেজে প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এ অংশের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়কে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন। তৃতীয় প্যাকেজে চুনতি মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, ‘বর্তমানে মহাসড়কের প্রস্থ ২১ ফুট। এটি বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হচ্ছে। সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত উভয় পাশে কোথাও ছয় ফুট, কোথাও সাত ফুট করে সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আরও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে মাঝখানে ডিভাইডার রেখে চার লেন করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।’
এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পনার একটি অংশের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রী জানান, হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ফেজ-১) আওতায় প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।