নানা আয়োজনে ফ্রান্সে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের মাঙ্গলিক কঠিন চীবর দান

ফ্রান্স প্রতিনিধি
নানা আনুষ্ঠানিকতায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে বাংলাদেশি নিজস্ব বিহার বিশ্ব শান্তি বৌদ্ধ ধ্যান কেন্দ্রের দানোত্তম মাঙ্গলিক কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) ফ্রান্সের প্যারিসের টরসির স্থানীয় এক হলরুমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় সকালে অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হয়।
দানোত্তম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে নানা আনুষ্ঠানিকতায় প্রবাসীদের অংশগ্রহনে শীলগ্রহণ, বুদ্ধপূজা, অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান, কল্পতরু দান , মাঙ্গলিক কঠিন চীবর দানসহ নানা আয়োজনে সমৃদ্ধ ছিল। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়।
দানোত্তম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে শীলগ্রহণ, বুদ্ধপূজা, অষ্টপরিষ্কার দানসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে জগতের সকল প্রাণীর সুখ কামনা করে সকালের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্রান্স বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের। আনন্দ বড়ুয়া বিটন সঞ্চালনায় পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন অমল বড়ুয়া।
বিকেলে কঠিন চীবর দানসভা ফ্রান্স বিশ্ব শান্তি ধ্যানকেন্দ্রের অধ্যক্ষ বিদ্যাবারিধী ড. বরসম্বোধি মহাথের সভাপতিত্ব করেন। আশীর্বাদক ছিলেন শ্রীলংকা থেকে আগত ভদন্ত কোথাগামা ওয়াসিসারা নায়ক থের, প্রধান জ্ঞাতি ছিলেন চট্টগ্রাম কাতালগঞ্জ নব পন্ডিত বিহারের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড . উপানন্দ মহাথের, প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন বাংলাদেশ ভিক্ষুণী সঙ্ঘের প্রধান ভিক্ষুণী গৌতমী।
ফ্রান্স বিশ্ব শান্তি ধ্যানকেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত অমিতানন্দ থের’র সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে ফ্রান্স বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহারের আবাসিক ভদন্ত আনন্দ থের, ফ্রান্স বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রিয়রক্ষিত থের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন পরিতোষ বড়ুয়া । বক্তব্য রাখেন বিজয় বড়ুয়া,আদেশ বড়ুয়া, আকাশ বড়ুয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত কয়েকটি দেশের নাগরিকেরা এ উৎসবে অংশ নেন।
সবশেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উল্লেখ্য, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহা পূণ্যবর্তী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সুতাগুলো রং করে, বয়ন করে, সেলাই শেষে চীবর বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র দান কার্য সম্পাদন করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহাযঙ্গ সম্পাদন করার কারণে বৌদ্ধরা এই ধর্মীয় উৎসবকে কঠিন চীবর দান বলে।