Saturday, June 27, 2026

পটিয়ার খতিব মাওলানা রফিউল করিম বেলালী

​বোয়ালখালী ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধিঃ
​দীর্ঘ ১৫টি বছর। প্রতি জুমার মিম্বরে দাঁড়িয়ে যে সুললিত কণ্ঠে তিনি সুধা বর্ষণ করতেন, যাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে বছরের পর বছর নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি— সেই প্রিয় মানুষটির বিদায়লগ্নে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ল পুরো মসজিদ প্রাঙ্গন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনসা আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি শাহী জামে মসজিদে সুদীর্ঘ দেড় দশক ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে খতিবের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা রফিউল করিম বেলালী।
​এই চিরন্তন বিদায়কে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর মসজিদ চত্বরে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদায়ের এই ক্ষণে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে প্রিয় খতিবকে জড়িয়ে ধরে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি অনেক প্রবীণ ও তরুণ মুসল্লি।

​আলোচনায় বক্তারা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাওলানা রফিউল করিম বেলালীর দীর্ঘ ১৫ বছরের নিঃস্বার্থ দ্বীনি খেদমত, সমাজ সংস্কারে তাঁর আপসহীন ভূমিকা এবং এলাকাবাসীর সাথে তাঁর আত্মিক ও সুগভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
বিদায়ী সংবর্ধনার অংশ হিসেবে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রিয় খতিবকে পরম শ্রদ্ধায় ‘সম্মাননা উত্তরীয়’ পরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় আবেগঘন ‘বিদায়ী মানপত্র’, ‘ফুলেল শুভেচ্ছা’ ও বিশেষ ‘উপহার সামগ্রী’। একই সাথে তাঁর দীর্ঘ পথচলার প্রতি সম্মান জানিয়ে মোতাওয়াল্লি পরিবার ও কমিটির পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সম্মানি প্রদান করা হয়।
​নিজের বিদায়ী বক্তব্যে মাওলানা রফিউল করিম বেলালীও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি অশ্রুভেজা কণ্ঠে দীর্ঘ দিন ধরে পাওয়া মনসা চৌধুরীবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসা, সহযোগিতা ও স্নেহের কথা স্মরণ করে সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমার সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. আবু ছৈয়দ চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদের ডিন অধ্যাপক সালেহ জহুর-এর সুনিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট শাহাদাত চৌধুরী।
​স্মৃতিচারণ ও বিদায়ী অনুভূতি ব্যক্ত করে মসজিদের মোতাওয়াল্লি পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মো. ফরহাদ হোসেন ও মো. ফাহিম চৌধুরী। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষে মো. আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মোর্শেদ খান, মোশারফ চৌধুরী, মাওলানা জয়নাল আবেদীন ও মো. শফিকুল ইসলাম মিঠু নিজেদের আবেগ ধরে রেখে বক্তব্য দেন। এছাড়া মুসল্লিদের পক্ষে মো. নাসির তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং অনুষ্ঠানের শেষাংশে সমাপনী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মো. এমরান চৌধুরী।
​বিদায়ের এই মহতী আয়োজনে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মুসল্লি বলেন, “যে দরদী ও মিষ্টি কণ্ঠে প্রতি জুমায় খুতবা শুনে আমরা আত্মিক শান্তি পেতাম, আমাদের অন্তরে হেদায়েতের আলো জ্বলত— আগামী জুমা থেকে সেই চিরচেনা কণ্ঠটি আর এই মসজিদে প্রতিধ্বনিত হবে না, এটা ভাবতেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমাদের হৃদয়ে তিনি যে শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলব না।”
​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মাওলানা রফিউল করিম বেলালীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ নেক হায়াত এবং ইহকাল ও পরকালের সর্বোচ্চ কল্যাণ কামনা করে এক বিশেষ ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত