১৫০ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্ধশতবর্ষ উদযাপন

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
১৫০ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্ধশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে কসউবি প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত “কসউবিয়ান শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫”-এর গ্র্যান্ড পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কসউবিয়ান দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
এই শিক্ষাবৃত্তির মূল লক্ষ্য হলো— শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্নপথে বাধা না হয়, সে নিশ্চয়তা দেওয়া।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ ডিসেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। নবম শ্রেণির মান অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, জলবায়ু পরিবর্তন, সাধারণ জ্ঞান ও যুক্তিভিত্তিক (আইকিউ) প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত ছিল—যাতে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ১০ জন শিক্ষার্থীকে “কসউবিয়ান স্কলার ২০২৫” হিসেবে সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তিনটি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ৭ জন সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীকে এক বছর মেয়াদি মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কসউবি প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের প্রধান নির্বাহী সংগঠক এম এম সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“কসউবিয়ান শিক্ষাবৃত্তি শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি আমাদের ১৫০ বছরের ঐতিহ্য থেকে উৎসারিত একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। আমরা চাই, মেধা ও মানবিকতা একসঙ্গে বেড়ে উঠুক।”
সাংগঠনিক সমন্বয়ক মোহিব্বুল মোক্তাদির তানিম বলেন,
“এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নৈতিক চর্চা গড়ে তুলতে চাই। ভবিষ্যতে শিক্ষাবৃত্তির পরিধি আরও বাড়ানো হবে।”
অপর সমন্বয়ক সাঈদ বিন জেবর বলেন,
“এই শিক্ষাবৃত্তি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোকবর্তিকা হবে।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শহীদ ওসমান হাদিকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তাঁর আত্মত্যাগ কসউবিয়ানদের মানবিক চেতনাকে শক্তিশালী করে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট মৎস্যবিজ্ঞানী ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরভিত্তিক গবেষণা ও মৎস্যসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকরা বলেন, কসউবিয়ান শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫ কোনো একদিনের আয়োজন নয়; এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মেধা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি চলমান উদ্যোগ।