রবিবার, মে ৩, ২০২৬

১৫-তে বিয়ে, ১৮-তে মা, ১৯-এ ডিভোর্স: তবুও ঘুরে দাঁড়ানো এক নারীর গল্প

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 
কৈশোরেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন আমেনা বেগম। অল্প বয়সে বিয়ে, মাতৃত্ব, সংসার ভাঙনের ধাক্কা এবং অভাবসহ নানাবিধ প্রতিকূলতা মিলিয়ে শুরুটাই ছিল সংগ্রামে ভরা। তবে, দমে না গিয়ে সব বাধা জয় করে আজ তিনি একজন আত্মনির্ভরশীল পোশাক শ্রমিক। একাই বহন করছেন বৃদ্ধ বাবা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের দায়িত্ব। অভাব, কষ্ট আর সমাজের নানা বাঁকা কথা পেছনে ফেলে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করে গড়ে তুলেছেন নতুন জীবন। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো ছেলের মধ্যে বুনে দিয়ে নীরবে লড়ে যাচ্ছেন এই অদম্য নারী।
গাজীপুরের হোপলন অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় কাজ করেন আমেনা বেগম। কাজের ফাঁকে সম্প্রতি সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে। তুলে ধরেন জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, না বলা কষ্ট আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। উঠে আসে দারিদ্র্য, বঞ্চনা, দায়িত্ব আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির চিত্র।
১৫ বছর বয়সে বিয়ে, ১৮-তে মা এবং ১৯ বছর বয়সে ডিভোর্সের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন আমেনা বেগম। সব হারিয়ে দমে না গিয়ে, অভাব ও সমাজের বাঁকা কথা উপেক্ষা করে তিনি আজ একজন আত্মনির্ভরশীল পোশাক শ্রমিক। গাজীপুরের একটি কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করে গড়ে তুলেছেন নতুন জীবন। এখন তার সব হিসাব-নিকাশ শুধু ছেলের ভবিষ্যৎ ঘিরে
আমেনা জানান, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার চৌদিঘি গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে ছোট থেকেই অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও তা আর এগোয়নি। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষাও দেওয়া হয়নি। পরিবারে আয় কম, সদস্য বেশি— এই বাস্তবতায় শিক্ষাজীবন থেমে যায় খুব দ্রুতই।
শুধু পড়াশোনাই নয়, খুব অল্প বয়সে জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন আমেনা। ২০০৪ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। তখনও তিনি বুঝে ওঠেননি সংসার কী। ২০০৭ সালে ১৮ বছর বয়সে জন্ম হয় তার একমাত্র ছেলে সন্তানের। নিজের শৈশব শেষ হওয়ার আগেই কাঁধে এসে পড়ে সংসার ও মাতৃত্বের দায়।

সর্বাধিক পঠিত