৩০ বার বিফল অবৈধ নামজারী খতিয়ান সৃজন করতে আবারো মরিয়া শওকত-আসিফ চক্র

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
৪৪জন ওয়ারিশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে গোপনে আইন বহির্ভূত হেবা মূলে চট্টগ্রামের শুধুমাত্র এক ওয়ারিশ ও তার লোকজন কর্তৃক চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র মিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা, চকবাজার ৯ তলা বাড়িসহ জমি দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নেতিবাচক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী আমলের তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া দলিল সৃজন করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল কর্তৃক জবরদখলের পর ভুয়া খতিয়ান সৃজন করার অপচেষ্টা এখনো অব্যাহত রেখেছে শওকত-আসিফ গং নামের অভিযুক্ত একটি চক্র। গত ৭ বছরে পাঁচজন এসিল্যান্ডের মাধ্যমে অন্তত ৩০ বার নামজারী খতিয়ান সৃজন আবেদন খারিজ হয়ে যায় শওকত গংয়ের। বর্তমানে নতুন যোগদান করা বাঁকলিয়া সার্কেলের এসিল্যান্ডকে ম্যানেজ করে আবারো. ভুয়া নামজারী খতিয়ান সৃজনের অপচেষ্টা করছে শওকত গং। এতে বরাবরের মতো শওকত গংয়ের পক্ষ নিয়ে কলকাঠি নাড়ছে ভূমি অফিসের দুই কর্মচারী প্রবাল ও বেলাল। তারা অতীতেও শওকত গংয়ের পক্ষ হয়ে সব ধরণের জালিয়াতি করে দিয়েছেন৷ এমনকি নিজেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ি জবরদখলে অংশও নিয়েছেন।
উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন স্তরের কাজপত্র তল্লাশী করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের উক্ত বিরোধপূর্ণ জমি কক্সবাজারের চকরিয়ার বিশিষ্ট জমিদার মরহুম খান মকবুল আলী চৌধুরী দুইশত বছরের স্বত্বীয় জমি। পর্যায়ক্রমে বর্তমানে ওই জমির মালিক তার ৪৪জন ওয়ারিশ।
এর আগে খান মকবুল আলী চৌধুরীর ছয় ছেলে ওয়ারিশ ছিলো। নানা প্রক্রিয়ার পর চট্টগ্রামের ওই জমিসহ গোষ্ঠীর অন্যান্য জমির গোলাভাগের একটি মামলা কক্সবাজারের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এর মধ্যে এক ওয়ারিশ জিসান বিনতে ওয়ালিদ নামের এক ওয়ারিশ আমমোক্তারনামা মূলে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে উক্ত জমিতে নতুন বাড়ী নির্মাণ করে নিজে বসবাস এবং সাতটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে আসছেন জিসান বিনকে ওয়ালিদ। উক্ত বাড়ির অনুকূলে ব্যাংক ঋণও নিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারী জিসান বিনতে ওয়ালিদ জানান,
উল্লেখিত জমির গোলাভাগ মামল আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। কিন্তু ৫০ বছর ধরে বিদেশে বসবাসরত এক ওয়ারিশ খালেদ ইবনে মোস্তাক নিজের নামে উক্ত জমির একটি একক ভুয়া হেবা দলিল ও নামজারী খতিয়া সৃজন করেন। কিন্তু এই ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়লে দোষ স্বীকার করে খালেদ ইবনে মোস্তাক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ২০১৮ সালের অক্টোবরে গোপনে দেশে এসে শওকত-আসিফ ছিদ্দিকী গংকে উক্ত জমি ও বাড়ী নিতান্ত কম মূল্যে দলিল করে দিয়ে পালিয়ে যান খালেদ ইবনে মোস্তাক! ওই অবৈধ দলিলমূলে শওকত-আসিফ ছিদ্দিকী গং তাদের নামে নামজারি খতিয়ান সৃজন করতে চেষ্টা করে। কিন্তু সঠিক কাগজপত্র ও জালিয়াতির দলিল হওয়ায় বাকলিয়া সার্কেলের ভূমি অফিসেরে ধারাবাহিক পাঁচজন এসিল্যান্ড কর্তৃক অন্তত ৩০ বার শুনানী করেও নামজারী খতিয়ান সৃজন করতে পারেনি তারা। এরই প্রেক্ষিতে নামজারী মামলা ১- ৩১২/২০২০ ইং এবং ১২৪৪/২০২১-২২ নংয়ের দুটি আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
এতে ক্ষিপ্র হয়ে শওকত-আসিফ ছিদ্দিকী গং গত তৎসময়ে বিপুল ককটেল ও বোমাসহকারে সশস্ত্র হামলা করে বাড়িটি জবরদখল করে নিয়েছে। এতে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী সায়েম সব ধরণের কলকাঠি নাড়ে। এছাড়া সাবেক আরেক মন্ত্রী নওফেলের লোকজনসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। তারা হামলা করে জবরদখলের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ক্ষিপ্র হয়ে ভুক্তভোগী জিসান বিনতে ওয়ালিদকে সীমাহীন হয়রানি ও প্রাণনাশের চেষ্টা করে শওকত-আসিফ ছিদ্দিকী গং। এর অংশ হিসেবে বিশিষ্ট পরিবেশ ও এনার্জি সেক্টরের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ জিসান বিনতে ওয়ালিদকে ঠেকাতে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি ভুয়া ও গায়েবী মামলা দায়ের করা হয় এবং ডিবি দিয়ে ঢাকা থেকে তাকে অপহরণের চেষ্টা করে।
জিসান বিনতে ওয়ালিদ অভিযোগ করেন, শওকত-আসিফ গং বর্তমানে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জমি ও বাড়িটি জবরদখল করে রেখেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও অবৈধ নামজারী খতিয়ান সৃজন করতে পারেনি। কিন্তু সম্প্রতি বাকলিয়া সার্কেল ভূমি অফিসে নতুন এসিল্যান্ড যোগদান করলে চক্রটি অবৈধ নামজারী খতিয়ান করতে আবারো উঠেপড়ে লেগেছে। আবারো ভূমি অফিসের সেই দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তা বেলাল ও প্রবাল শওকত এবং আসিফ গংয়ের পক্ষ হয়ে জালিয়াতি করে ভুয়া নামজারী খতিয়ান সৃজনের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। শওকত-আসিফ গংয়ের অতীতের দুটি নামজারী আবেদন খারিজ, গোলাভাগ এবং উচ্চ আদালতে মামলা বিচারধীন থাকলেও নতুন এসিল্যান্ডকে ভুল বুঝিয়ে কুচক্রী গং উক্ত অবৈধ নামজারী আবেদন করেছেন- যা অত্যন্ত জঘন্য ও সম্পূর্ন বেআইনী।
জিসান বিনতে ওয়ালিদ বলেন, মূলত ভূমি অফিসের দুই দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বেলাল ও প্রবাল এই অবৈধ তৎপরতা জিইয়ে রেখেছে। শওকত-আসিফ গং থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারাই নবনিযুক্ত এসিল্যান্ডকে ভুল বুঝিয়ে অবৈধভাবে নামজারী খতিয়ানটি সৃজন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এই অপচেষ্টা করা হলে আমরা আরো কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
তিনি বলেন, ওই বাড়িতে আমি চার কোটি টাকা খরচ খরচ করেছি। এখন শওকত-আসিফ গং এবং ভূমি অফিস যেটা করছে এটা চরম জুলুম।
এটা আমাদের উপর সীমাহীন অত্যাচার ও হয়রানি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।