প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৫, ২০২৬, ১:৫৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৫, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
আজহারির ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে প্রতারণা, ২ যুবক রিমান্ডে
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ইসলামী বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারির ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক সামিম হাসান মোট ১০ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত অপর আট আসামির রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৫ এপ্রিল এ মামলার দশ আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ।
কারাগারে যাওয়া ৮ আসামি হলেন শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) ও মো. ইমরান (২৪)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই চক্রটি পরিচালনা করতেন।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদি হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর ডিএমপির পল্টন মডেল থানা ও সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত।
পরবর্তীতে সেই ভুয়া ভিডিওতে ড. আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামক একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।
বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিতেন। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ প্রায় ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাত। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ড. আজহারী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি তাঁর নাম ও পরিচিতি ব্যবহার করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধর্মীয় আবেগ ও মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত