প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ৩:৩৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
আদালতে বিচারকের সামনেই নারীর ‘বিষপান’
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ফেনীর ফুলগাজী আমলী আদালতে বিচারকের সামনেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা (২০) নামে এক গৃহবধূ। দাম্পত্য কলহ ও স্বামীর নির্যাতনের প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে আদালত চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আদালত মোহনার স্বামী আকবর হোসেনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম রামপুর এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে তাহমিনা আক্তার মোহনার সঙ্গে ফুলগাজী উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জাফর আহমদের ছেলে আকবর হোসেনের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।
মোহনার অভিযোগ, তার স্বামী একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর মাধ্যমে তার ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এ ঘটনায় মোহনা তার স্বামীর বিরুদ্ধে সিআর মামলা (নম্বর-২৬, ফুলগাজী আমলী আদালত) দায়ের করেন। রোববার মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল।
ফুলগাজী আমলী আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিন জানান, মামলার শুনানিকালে আসামি আকবর হোসেন স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, ভিকটিম মোহনা আসামির জামিন বাতিলের দাবি জানান। মোহনা আদালতে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী তাকে সঙ্গে রাখতে চান না এবং প্রথম স্ত্রীর দুর্ব্যবহারের কারণে তিনি অতিষ্ঠ।
তিনি আরও জানান, শুনানি চলাকালে মোহনা চিৎকার করে বলেন, ‘আজ যদি এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তবে আমি বিষ খাবো।’ এর কিছুক্ষণ পরই তিনি সঙ্গে রাখা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজন ও উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন আসামি আকবর হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বর্তমানে মোহনা ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ও সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, রোগীটিকে বিষক্রিয়ার কারণে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত