বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

আন্তঃজেলা অপহরণ চক্রের সদস্য ৯ মামলার আসামী মোরশেদ ফের বেপরোয়া, গ্রেফতারের দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের ঈদগাঁও- রামু পাহাড়ি জনপদে ডাকাতি, অপহরণ, হত্যা, মাদক সেবন, ছিনতাইসহ নানান অপরাধের প্রধান আন্তঃ ডাকাত দল ও অপহরণ চক্রের সদস্য জালালাবাদের মোরশেদ প্রকাশ চোরা মোরশেদ ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে নানান অপরাধ  নিয়ন্ত্রণ আসছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত মোরশেদ  জালালাবাদ  ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব মিয়াজি পাড়ার আব্দু শুক্কুরের ছেলে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, সন্ত্রাসী, ডাকাত ও ছিনতাইকারী মোরশেদ  এলাকা ভিত্তিক সন্ত্রাসী, গরু ডাকাতি ও টমটম ছিনতাই  সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। পাহাড়ে অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা, মাদক সেবনসহ নানান অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।

সন্ত্রাসী মোরশেদ সিন্ডিকেট সদস্যদের নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে এলাকায় গরু ব্যবসা ও  টমটম গ্যারেজ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে অনেক ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, মোরশেদের অপরাধ কর্মকান্ডের তথ্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানালে উল্টো তাদের পরিচয় সন্ত্রাসী মোরশেদকে জানিয়ে দেয় পুলিশ। ফলে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীতায় ভুগছে অনেকেই।

সন্ত্রাসী মুর্শেদ বিভিন্ন মামলায় ৫ বছরের অধিক সময় জেলে ছিল। দেশের বিভিন্ন থানায় হরেকরকম অপরাধে আটক হয়ে কারাভোগ করে জামিনে এসে পূনরায় সন্ত্রাসী,ডাকাতি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মোরশেদের সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন যাবৎ কক্সবাজার ও ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের সদস্যদের মাধ্যমে ইজি বাইক/টমটম ভাড়া করে নির্জন এলাকায় নিয়ে যেত, ঐ নির্জন এলাকায় আগে থেকেই অপহরণকারী অন্য সদস্যরা উৎপেতে থাকতো, সুযোগ বুঝে চালককে হাত পা মুখমন্ডল বেধে নির্জন এলাকায় ফেলে টমটম ছিনতাই করতো এমনকি অনেককে হত্যা করতো। সে ইদগড় পাহাড়ি রাস্তায় অপহরণকারী দলেরও সদস্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে ডাকাত মোরশেদ চৌফলদন্ডী থেকে কৌশলে টমটম ভাড়া করে এনে চালককে তার গ্রামের নির্জন এলাকায় সুপারী বাগানে হত্যা করে লাশ ক্ষতবিক্ষত  করে টমটম ছিনতাই করে নিয়ে যায়।পরে গোয়েন্দা সংস্থা ও র‍্যাব ১৫ কক্সবাজারস্থ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা

ক্লুলেন্স হত্যার ঘটনাটি প্রযুক্তির মাধ্যমে রহস্য উৎঘাটন করে মোরশেদ ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পরে ঈদগাঁও থানায় মামলা করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন, এবং ১৬৪ ধারার জবানবন্দি আদায় করেন আদালত। জবানবন্দিতে সে টমটম চালক মোহাম্মদ মোরশেদকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। ওই ঘটনায় দীর্ঘ ৫ বছর কারাভোগের পর জামিনে এসে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠায় জনমনে নানান প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সে সময় খুনি চক্রের প্রধান মোরশেদকে আটকের পর হত্যাকান্ডটি পুরো জেলাজুড়ে টপ অব দ্য ডিস্ট্রিক্টে পরিণত হয়। কারণ সে সময়ে ঈদগাঁও থানার আশেপাশে অনেক টমটম ছিনতাই করে নির্জনে লাশ পাওয়া গিয়েছিল। এলাকাবাসী আরো জানান, জামিনে  বের হয়ে আবারো সন্ত্রাসী,ডাকাতি ও ছিনতাই করে যাচ্ছে। সম্প্রতি  জালালাবাদে রাবারড্যামে এলাকায় সিএনজি ডাকাতি, ফেরিওয়ালা থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই, রাবারড্যাম এলাকায় গরু ডাকাতি সন্ত্রাসী মোরশেদর সংশ্লিষ্টটা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় সন্ত্রাসী, ডাকাত ও ছিনতাইকারী আটক হলেও ডাকাত মোরশেদ  ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।

মোর্শেদ জেল থেকে বের হওয়ার পরে ঈদগড় সড়কে ডাকাতি ও রাবারড্রাম ডাকাতির ঘটনা, গরু চুরি বৃদ্ধিসহ ছিনতাই হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

তার ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কারণে বৃহত্তর ঈদগাঁও এবং জালালাবাদ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। ঈদগাঁও বাজার থেকে ব্যবসায়িরা রাতে বাড়ি ফিরতেও আতংকিত বোধ করছে।

আদালত ও থানা থেকে পাওয়া তথ্যে অনুয়ায়ী

তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় থাকা মামলা গুলো হলো ঈদগাঁও থানার মামলা-এফআইআর নং-৪/১৬ তাং-০৮/০২/২৩ ধারা-৩০২,৩৯৪,৪১১,৩৪

কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং ৭৬/৪২৪ তাং-২৮ মে ২০২০, ধারা-৩২৩,৩২৪,৩২৬,৩০৭।

রামু থানার মামলা নং ৬৭/২৪৯, তাং-২৯ এপ্রিল ২০২২, ধারা-৩৯৪, ৩০২,৩৪  কক্সবাজার থানা মামলা নং-২৬/৫৮ তাছাড়া অন্যান্য থানায় আরো ৪ টি সহ ৯টি মামলা চলমান রয়েছে।

জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীরতাজ জনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মোরশেদ একজন খারাপ লোক, তার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের মানুষজন অতিষ্ঠ,’তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার ওসি সিফাতুল মাজদার জানান, মুর্শেদের বিরুদ্ধে এর আগে জানা ছিল না। এতো মামলা নিয়ে এলাকায় কোনো ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের জোর দাবী নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খুনি, ডাকাত ও ছিনতাই কারী মোরশেদকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং এলাকায় কঠোর নজরদারী জোরদার বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বাধিক পঠিত