আলমগীর ফরিদ মাইনাস: মহেশখালী–কুতুবদিয়ায় সালাহউদ্দিন অথবা নতুন মুখ

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। অর্থনৈতিকভাবে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন কক্সবাজার-২
(মহেশখালী–কুতুবদিয়া) এ কী ঘটতে যাচ্ছে এ নিয়ে সরগরম চলছে রাজনৈতিক মহলে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ইউসূফ বদরীর ভাষায়, প্রার্থী বাছাইয়ে চমক আসতে যাচ্ছে আসনটিতে। এজন্য সাধারণ জনগণকে তিনি ধৈর্য্য ধরতে বলেছেন।
এদিকে, বিএনপি তাদের প্রার্থীদের সাথে মনবিনিময় সভায় এই আসন থেকে ডেকেছিলেন তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে, যার মধ্যে ছিলেন— এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, আলমগীর ফরিদ ও আবু বক্কর ছিদ্দিক।
তবে দলটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বলছে, মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে ছিটকে পড়েছেন আলমগীর ফরিদ ও আবু বক্কর ছিদ্দিক।
দলীয় সূত্র কি বলছে?
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আলমগীর ফরিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দলের হাইকমান্ডে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ আমলে ‘কার্যকর’ অর্থে সক্রিয় ছিলেন না তিনি, তার ভাতিজা আওয়ামী লীগের এমপি আশেকউল্লাহ রফিককে ম্যানেজ করে প্রোগ্রাম কারার অভিযোগ উঠেছে। সে কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকার বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসে কেন্দ্রে কাছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজের ভাতিজাকে প্রাথী করে দল থেকে বহিষ্কার হন। পরে ২০২৪ সালেও ভাতিজাকে উপজেলা নির্বাচনে মাঠে নামায়, যখন বিএনপিসহ সকল আওয়ামী বিরোধী দল ভোট বর্জন করে।
বিএনপির দুর্দিনে (নব্বইয়ের দশক ও লীগের টানা ১৫ বছরের শাসন) তার পরিবারই মহেশখালী আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেয়া এবং আলোচিত শফি হত্যা মামলার বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলমগীর ফরিদের দূরত্ব তৈরি হওয়াও তার অবস্থান দুর্বল করেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আবু বক্কর ছিদ্দিককেও খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি দল। ভাই মকছুদ মিয়ার ‘আমলনামা’ নিয়ে বিতর্ক থাকায় তাকে নিয়েও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে।
হাইকমান্ডের নজর হেভিওয়েট প্রার্থীর দিকে
দলীয় সূত্র জানায়, এই আসনটি বিএনপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দলটি এখানে “হাই-প্রোফাইল” বা “হেভিওয়েট” প্রার্থী আনতে চায়। হাইকমান্ডের আলোচনায় উঠে এসেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম। সেক্ষেত্রে কক্সবাজার-১ আসনে প্রার্থীর পরিবর্তন আসবে।
পাশাপাশি, কোনও কারণে তিনি না আসলে বিকল্প হিসেবে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরীকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই দুইজন ছাড়াও তাদের বিকল্প হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ সমর্থিত হিসেবে আরেকটি নতুন মুখের আবির্ভাবের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যাইহোক, দলটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটির ভাষায় এই আসনে বিএনপি এবার বড় চমক দিতে যাচ্ছে। অপেক্ষা শুধু কেন্দ্রীয় ঘোষণার।
গত ৩ নভেম্বর কক্সবাজারের তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও কক্সবাজার-৩ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা–কল্পনা তৈরি হয়েছে।
“ওয়েট অ্যান্ড সি, ফর সারপ্রাইজ” কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন,“কক্সবাজার-২ কুতুবদিয়া–মহেশখালী জিওগ্রাফিক্যালি ইম্পোর্ট্যান্ট এরিয়া! সো, ওয়েট অ্যান্ড সি, ফর সারপ্রাইজ!” এই পোস্টের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, এই আসনে নতুন মুখ অথবা হাইপ্রোফাইল প্রার্থী আসতে পারেন।
এবার দক্ষিণ থেকে প্রার্থী থাকছে না বড় দলে মহেশখালীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন সময় ধরে বড় দলগুলোতে নেত্বত্ব বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেতে দেখা গেছে। এবার ব্যতিক্রম ঘটতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানকার নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিল উত্তরের মানুষ।