শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১৪টি ইউপির সচিবগণকে নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত বলেন, তিন মাস পরপর ইউএনও সাহেব একটা অ্যাসেসমেন্ট করবেন। সেখানে যে ইউনিয়নে নাগরিক সেবা সবচেয়ে সন্তোষজনক থাকবে আমরা সেই ইউপির সচিবকে পুরস্কার দেব। ১৪ নম্বর পর্যন্ত লিস্ট হবে। যারা সবচেয়ে কম নাগরিক সেবা দেবেন, তাদের লিস্ট শেষে থাকবে।
সেবা নিতে আসা নারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা কোনো নাগরিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে নারীরা অনেক সময় অভিযোগ করেন, তারা পরিষদে গেলে যথাযথভাবে কথা বলা হয় না। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। মানুষ প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসে না। সাধারণত কোনো বিপদে পড়লেই তারা সেবা নিতে আসে। তাই তাদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করা সবার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বার এলাকার অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে বিদেশে যান। যাদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে উঠে আসা। বিদেশ যাওয়ার সময় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। এ সময় যদি হয়রানির শিকার হন, তবে সেই ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে থাকে।
সভায় তিনি ভূমি অফিস ও তহসিল অফিস সম্পর্কেও অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব অফিস নিয়েও জনগণের কিছু অভিযোগ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অবৈধ লেনদেনের ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো চেয়ারম্যান বা মেম্বার যদি নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করতে চাপ দেন, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইউএনওকে অবহিত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় নাগরিকরাও নিজেদের প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধনের বয়স পরিবর্তনের জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দেন বা টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের অনিয়মকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সচিবরা (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) উপস্থিত ছিলেন।