প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৮, ২০২৬, ৭:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৮, ২০২৬, ১১:৩১ পি.এম
ঈদগাঁওতে ‘চিহ্নিত মাদক কারবারির বাড়ী’ স্টিকার লাগিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদ
ঈদগাঁও প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় বনবিভাগের জায়গা দখল করে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আলিশান দালান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে চিহ্নিত এক মাদক কারবারির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই দালানের ফটকে ‘এটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাকিলের বাড়ি’ লেখা সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চালানো এই অভিনব প্রতিবাদ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৯ জুন চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক হন শাকিল। এই ঘটনাটি সম্প্রতি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শাকিল কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের কালু ফকিরপাড়ার শাহ আলম ও শাহেদা আক্তার দম্পতির সন্তান। তিনি মেহেরঘোনা এলাকায় এসে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে সরকারি জমিতে এই আলিশান দালান গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী অভিযোগে জানান, ইয়াবা কারবারির এমন দাপট ও তরুণ প্রজন্মের ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা এই মাদক কারবারিকে সামাজিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী শাকিলের বাড়ি ঘেরাও করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির ফটকে ‘এটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাকিলের বাড়ি’ লেখা পোস্টার লাগিয়ে দেন।
এসময় মাদক কারবারি ওই পরিবারের সাথে এলাকাবাসীর সবধরণের সামাজিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার আহবান জানান, প্রতিবাদকারিরা।
ঈদগাঁও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, “আগামী প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকার মানুষ চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছে। আমরা তাদের এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছি। এলাকাবাসী সরকারি জমি দখল করে অবৈধ দালান নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।”
এ বিষয়ে মেহেরঘোনা বনবিট কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, “এলাকাবাসী বনবিভাগের জায়গায় নির্মিত ওই দালান উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। আমি এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করব।”
এদিকে, এলাকাবাসীর লাগানো স্টিকার সন্ধ্যার দিকে কে বা কারা সরিয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে। সরকারি জমিতে কীভাবে এত বড় স্থাপনা গড়ে উঠল এবং বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অনতিবিলম্বে অবৈধ এই দালানটি উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত