প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ১০:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১১, ২০২৫, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ঈদগাঁওতে মাদ্রাসা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন
আনাছুল হক
ঈদগাঁও আলামাছিয়া মাদ্রাসার নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ১১ নভেম্বর দুপুরে ঈদগাঁও আলামাছিয়া মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসা ছুটি শেষে কয়েকজন ছাত্রী বঙ্কিম বাজার থেকে মিনি টমটমযোগে পোকখালীর উদ্দেশে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় ফয়সাল নামের এক যুবক ও তার এক সহযোগী যাত্রী সেজে একই টমটমে উঠে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করতে থাকে এবং মোবাইলে তাদের ভিডিও ধারণ করতে থাকে।
ছাত্রীরা আপত্তি জানালে তারা টমটম থামানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ফয়সাল জোরপূর্বক চালককে গাড়ি চালিয়ে যেতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে ফরাজি পাড়া ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন নির্জন স্থানে গাড়ি থামিয়ে ছাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, ফয়সালের এমন নোংরামির প্রতিবাদে এগিয়ে আসা তাদের এক সহপাঠীকেও সে গলা চেপে ধরে এবং প্রকাশ্যে চড় থাপ্পড় মারে। এসময় আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দ্রুত সটকে পড়ে সে। পরে স্থানীয়দের ফোন থেকে ৯৯৯-এ কল করে আইনি সহায়তা চান ছাত্রীরা।
খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফয়সালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় বদিউল আলমের ছেলে বলে জানা গেছে। রাতেই ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিভাবকরা ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯ এ কল পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফয়সালকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ফয়সালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত