কেফায়েত উল্লাহ, টেকনাফ প্রতিনিধি
ঈদে আনন্দ উদযাপনে নানামাত্রিক আয়োজন সেই অনাদিকাল থেকে- এবার তেমনই বৈচিত্র্যময় আয়োজনে টেকনাফে সম্পন্ন হলো চার দিনব্যাপী ‘ঈদ উপহার ও হাদিয়া বিতরণ’ কর্মসূচী। আর এবারের এই আয়োজন ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠলো টেকনাফে।
টেকনাফ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড জালিয়া পাড়া এলাকায় গত ২৬ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত চার দিনব্যাপী অনুষ্টিত হয় ‘ঈদ উপহার ও হাদিয়া’ বিতরণ কর্মসূচি। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন জে.পি নাফ লায়ন ক্লাবের উদ্যোগে এবং সংগঠনের সভাপতি সালমান ফার্সির ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই মানবিক কর্মসূচি পালিত হয়।
আয়োজকরা জানান, এই চার দিনে এলাকার প্রায় তিন শতাধিক তরুণ ও যুবসমাজ, স্থানীয় প্রবীন নাগরিক এবং অস্বচ্ছল নারীদের মাঝে ঈদের বিশেষ উপহার ও হাদিয়া তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপহার ও হাদিয়া পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জালিয়া পাড়ার তরুণরা। তারা জানান, সাধারণত বড় বড় আয়োজনে বা উৎসবে তরুণদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। কিন্তু জে.পি নাফ লায়ন ক্লাব এবং সালমান ফার্সি ভাই যেভাবে আমাদের বড় ভাই হিসেবে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমরা অভিভূত।
তাদের মন্তব্য, এই উপহার আমাদের কাছে কেবল সম্পদ নয়, বরং বড় ভাইয়ের ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। এমন উদ্যোগ আমাদের সামাজিক ও মানবিক কাজে আরও উৎসাহিত করবে।
ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এই বিশেষ উপহার পেয়ে এলাকার মহিলারা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, পবিত্র ঈদের আগে এমন উপহার তাদের ঘরে খুশির আমেজ নিয়ে এসেছে। স্থানীয় মুরুব্বিরা সালমান ফার্সি ও ক্লাবের সকল সদস্যের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করেছেন।
এই উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ হোসেন খোকন জানান, জালিয়া পাড়ার যুবসমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। সামাজিক উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবায় তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। জে.পি নাফ লায়ন ক্লাবের এই কর্মসূচি পাড়ার সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরও মজবুত করেছে।
জে.পি নাফ লায়ন ক্লাবের সভাপতি সালমান ফার্সি তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে উল্লেখ করেন,ঈদ মানেই আনন্দ, আর এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন আমরা তা সবার সাথে ভাগ করে নিতে পারি। আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এলাকার তরুণ ভাইদের এবং মুরুব্বিদের সামান্য উপহার দিতে পেরে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
গত চার দিন ধরে জালিয়া পাড়া এলাকায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই উপহার বিতরণে নিরলসভাবে সহযোগিতা করেছেন ক্লাবের সদস্য হারেস, আলমগীর ও আব্দুল আমিনসহ সংগঠনের একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
দীর্ঘ চার দিনের এই কার্যক্রম এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়রা জানান, জালিয়া পাড়া জে.পি নাফ লায়ন ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের এই ‘ঈদ হাদিয়া’ বিতরণ সেই মানবিক ধারাবাহিকতারই একটি অনন্য অংশ।
সবশেষে সালমান ফার্সি ৭নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্দেশ্যে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,ঈদের আনন্দ সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও প্রশান্তি নিয়ে আসুক। আপনাদের সবার ঈদ কাটুক আনন্দে ও নিরাপদে। ঈদ মোবারক।