ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, কক্সবাজারঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো। সন্তানদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্বজনরা।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম ধুরংখালী নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আলমের ছেলে কামরুল হাসান নয়ন (১৮) ও মনজুর আলমের ছেলে সিফাত (১৭)। নয়ন চট্টগ্রামের কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং সিফাত উখিয়া মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে দুপুরে নিজ বসতভিটার লিচু বিক্রির উদ্দেশ্যে দুই বন্ধু একসঙ্গে কোটবাজারে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই দুই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী নয়নের পিতা সৈয়দ আলম বলেন, “আমার ছেলে নয়ন ও তার বন্ধু সিফাত লিচু বিক্রি করতে কোটবাজারে গিয়েছিল। তারপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছি। কোথাও তাদের সন্ধান মেলেনি। একজন বাবার জন্য এই অপেক্ষা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।”
তিনি আরও বলেন, “ দীর্ঘ ১১ দিন গত হয়ে গেলেও তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিদিন সকালে মনে হয় হয়তো আজ ছেলে ফিরে আসবে। কিন্তু দিন শেষে শুধু হতাশা বাড়ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, যেন দ্রুত আমাদের সন্তানদের উদ্ধার করা হয়।”
সিফাতের স্বজনরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে উদ্বেগ ও শঙ্কার ছায়া। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের কাছে যেন অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে কাটাতে হচ্ছে।
নয়নের মামা শাকিল উদ্দিন বলেন, “কোনো দুর্ঘটনা নাকি অপহরণ—কিছুই বুঝতে পারছি না। প্রতিদিন নতুন করে আশা করি, আবার ভয়ও কাজ করে। শুধু চাই, ছেলেরা সুস্থ ও জীবিত ফিরে আসুক। দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে কোথাও আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় গত ২ মে উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে দেশের বিভিন্ন থানায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চলমান রয়েছে। পরিবার থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
নিখোঁজের ১১ দিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। দ্রুত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্বজনরা।