
সিয়াম সোহেল :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’কে সামনে রেখে ২৩৪ টি সংসদীয় আসনে নিজেদের একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। যার মধ্যে কক্সবাজারের চার আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি, এছাড়া মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসন স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (৩নভেম্বর) সন্ধ্যায় নয়া পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ২৩৪টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, আর মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনটি পরে ঘোষণার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘোষণায় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহামেদ। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সরকারি কর্মকাণ্ডের পরিচিতি এই আসনে দলকে শক্ত অবস্থানে রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু-ইদগাঁও) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল। এখানে তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং মৎস্যজীবী সমাজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে নির্বাচনী মাঠে সুবিধা দেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত আসন ছিল কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)। চার বারের সাবেক সাংসদ, সাবেক হুইপ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এই এলাকা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, তাই চৌধুরীর দীর্ঘকালীন অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনটি স্থগিত রাখা হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এই আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা পরে করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থগিত রাখার কারণ হতে পারে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় কনসেন্সাস এবং নির্বাচনী কৌশল।
সংবাদ সম্মেলনের পর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি স্থানীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে এবং আগামী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করছে।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেলার চারটি আসনের মধ্যে ৩ টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন। পতিত আওয়ামী লীগের আমলের অনুষ্ঠিত ২০১৪ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি তবে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে কক্সবাজারের ৪টি আসনে প্রার্থী থাকলেও জয়লাভ করেননি কেউ।
