শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬

কলকাতায় শতবর্ষের মসজিদ সরানোর পরিকল্পনা, নতুন বিতর্কের আভাস

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে লাগোয়া শতাধিক বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। তবে বিষয়টি সামনে আসতেই ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।‌

সূত্রের খবর, প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের প্রসঙ্গ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের আবেগ এবং রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার কারণে কোনো সরকারই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। যদিও রাজ্য সরকার চাইছে পুরো বিষয়টি সর্বসম্মতির ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে।

এদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই উদ্যোগ ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু মানুষের কাছে এই মসজিদ শুধুমাত্র নামাজের জায়গা নয়, এটি এলাকার ইতিহাস এবং ধর্মীয় আবেগের অংশ। প্রতি বছর ঈদের নামাজে এখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। ফলে মসজিদ সরানোর প্রশ্নে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে নন। তবে শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করা একটি ধর্মীয় স্থাপনা সরানো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাদের বক্তব্য, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিকল্প জায়গায় আরও বড় মসজিদ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

ইতিহাস বলছে, ১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর চালু হওয়ার আগেই এই মসজিদের অস্তিত্ব ছিল। পরে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সময় আশপাশের বহু জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মসজিদটি থেকে যায়। এমনকি যশোর রোডের পথও পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেই থেকেই বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভেতরে রানওয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই পুরনো ধর্মীয় স্থাপনা।‌

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র নিরাপত্তার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় অনুভূতি, সংখ্যালঘু আবেগ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার। ফলে মসজিদ স্থানান্তরের প্রশ্ন নতুন করে রাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

প্রশাসনের দাবি, কোনো পক্ষের অনুভূতিতে আঘাত না দিয়েই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। এখন দেখার, নিরাপত্তা আর ধর্মীয় আবেগের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যে শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় সরকার।

সর্বাধিক পঠিত