কলাতলীতে নবনির্মিত এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার সদর–রামু–ঈদগাঁও আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এমপি কাজল অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। গুরুতর আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ একা নয়, তাদের পাশে রাষ্ট্র ও জনপ্রতিনিধি সবসময় থাকবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
উল্লেখ্য, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নবনির্মিত ‘এন আলম’ নামের একটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্টেশনটি থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি গ্যাস ট্যাংক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ট্যাংকের গ্যাস সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। আগুনে ফিলিং স্টেশনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পাশাপাশি অন্তত ১০টি বসতবাড়ি এবং পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত ২০ থেকে ২৫টি জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না এবং গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনুমোদনহীন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা কীভাবে গড়ে উঠলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।