প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৪, ২০২৬, ৪:৫৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৪, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের হাওড়ের ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওড়ে ১০ হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটলেও এখন পানিতে নিমজ্জিত ধান শ্রমিক সংকটে কাটতে পারছেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস জানায়, জেলার হাওড়ে এখন পর্যন্ত বোরো ধান কাটা হয়েছে ৬৩ শতাংশ এবং পানিতে নিমজ্জিত ৭ শতাংশ। কাটা বাকি আছে ৩০ শতাংশ।
এদিকে সোমবারও বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। হাওড়ের একটি মাত্র ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ হয়েছে। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে হাওড়ের অষ্টগ্রাম, মিটামইন, ইটনা, নিকলি, ভৈরবসহ বিভিন্ন উপজেলায় রোববার পর্যন্ত ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
বৈশাখের শুরুতে কৃষকরা তাদের পাকা ধান হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কাটা শুরু করে। মোট আবাদের ৫২ শতাংশ ধান ভালোভাবে কাটতে পারলেও ১১ শতাংশ ফসল বৃষ্টির মধ্য কাটে। ৭ শতাংশ ধান কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায়। এখনো নিমজ্জিত আছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল।
বর্তমানে জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার দিয়ে কৃষকরা ধান কাটতে পারছে না। হাতে কাটতে হলে শ্রমিকের প্রয়োজন। কিন্তু ধান কাটার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক হাওড়ে না থাকায় কৃষকরা তাদের ধান কাটতে পারছে না। এখনও ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা বাকি আছে। আবার প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এখন কৃষকরা নিজদের ঘরের লোকজন দিয়ে ধান কাটতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অষ্টগ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে আমার ১০ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ৫ বিঘা জমির ধান কেটেও শুকাতে পারিনি, ফলে গেরা হয়ে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কি খামু সারা বছর, সংসারের খরচ চলবে কী করে ভেবে পাচ্ছি না।
মিটামইনের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে আমি ধান কাটতে পারছি না। জমিতে পানি উঠেছে, তাই হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটা সম্ভব নয়।
ভৈরবের কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে।
ইটনার কৃষক মধু মিয়া বলেন, বৃষ্টি আমাদের ফসল কেড়ে নিল। এখন সারা বছরের খাবার ধান ঘরে তুলতে পারব না। আমার ৪ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ৩ বিঘার ফসল কোনোরকমে কেটেছিলাম। কিভাবে সারা বছর সংসার চলবে চিন্তা করছি।
কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, জেলায় এবার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। তার মধ্য ৬৩ শতাংশ ফসল কাটা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে। এখনও ৩০ শতাংশ ফসল কাটার বাকি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা বিপাকে আছে। এক সপ্তাহ রোদ হলে হাওড়ের বাকি ফসল কাটা শেষ হয়ে যাবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত