কেন বিবাহিত পুরুষদের বেশি পছন্দ করে নারীরা

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
মানুষের সম্পর্কের জগতটা অদ্ভুত রকম জটিল। এখানে আকর্ষণ সবসময় শুধু সৌন্দর্য, বয়স বা ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে না; কাজ করে সামাজিক সংকেত, মানসিক নিরাপত্তা, অভিজ্ঞতা আর অবচেতন মনও। আর এসব নিয়েই মাঝেমধ্যে এমন কিছু গবেষণা সামনে আসে, যা বিস্ময় জাগায়।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জার্নাল অব হিউম্যান নেচার’-এ প্রকাশিত একটি তত্ত্বভিত্তিক আলোচনায় বলা হয়েছে, অনেক নারী এমন পুরুষদের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করেন, যারা আগে থেকেই সম্পর্কে আছেন বা বিবাহিত। গবেষণার ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘মেইট চয়েস কপিং’ বা ‘সঙ্গী নির্ণয়ের অনুকরণ’।
গবেষণা মতে, প্রায় ৯০ শতাংশ নারী এমন পুরুষদের পছন্দ করেন যারা বিবাহিত।
তবে গবেষকরা এটাও স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো চূড়ান্ত সত্য নয় এবং সব নারী বা সব সম্পর্কের ক্ষেত্রে একভাবে প্রযোজ্যও নয়। মানুষের সম্পর্কের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। তবু কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ এই আকর্ষণের পেছনে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা।
আগে থেকেই যোগ্য হিসেবে দেখা হয়
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, মানুষ অনেক সময় অন্যের সিদ্ধান্তকে নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়।
যখন একজন নারী দেখেন, অন্য একজন নারী কোনো পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তখন অবচেতনভাবে সেই পুরুষকে যোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য বা নিরাপদ মনে হতে পারে। মনে হয় মানুষটি ইতোমধ্যেই কারও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
নির্ভরযোগ্যতার ধারণা তৈরি হয়
বিয়ে মানেই একজন মানুষ অন্তত একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাই অনেক নারীর কাছে বিবাহিত পুরুষদের দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মনে হতে পারে।
গবেষকদের মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা, দায়িত্ব নেয়ার মানসিকতা এবং স্থিরতা অনেক সময় নারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যারা মানসিক নিরাপত্তাকে বেশি মূল্য দেন তাদের কাছে এই দিকগুলো আকর্ষণের কারণ হতে পারে।
পরিণত মানসিকতা আকর্ষণ তৈরি করে
অনেকের ধারণা, বিবাহিত পুরুষরা সম্পর্কের ওঠানামা, মানসিক চাপ কিংবা পারিবারিক বাস্তবতা সম্পর্কে তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞ হন। ফলে তাদের আচরণে এক ধরনের স্থিরতা বা পরিণত ভাব দেখা যায়, যা কিছু নারীর কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের সঙ্গে নয় বরং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতিবোধ তৈরি হয়। আর সেই অভিজ্ঞতাই অনেক সময় কাউকে আলাদা করে তোলে।
প্রতিশ্রুতি করার সক্ষমতা বড় বিষয়
সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দেয়ার ক্ষমতা অনেক নারীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। বিবাহিত একজন পুরুষ অন্তত একবার সেই প্রতিশ্রুতিতে গিয়েছেন, এই বিষয়টিই কিছু মানুষের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কম বয়সী নারীরা অনেক সময় সম্পর্ক বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক সংকেতের ওপর বেশি নির্ভর করেন। ফলে ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পুরুষদের তারা তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল মনে করতে পারেন।
নিষিদ্ধতার মনস্তত্ত্বও কাজ করে
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের মনে নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে কৌতূহল কাজ করাটা অস্বাভাবিক নয়। কোনো কিছু কঠিন, দূরের বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে সেটির প্রতি আগ্রহ বেড়ে যেতে পারে। তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, আকর্ষণ অনুভব করা আর বাস্তবে সম্পর্কে জড়ানো এক জিনিস নয়।
বিবাহিত পুরুষদের পরকীয়ায় জড়ানো বড় এক ঝুঁকি। যখন কোনো পুরুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, তার মানে হলো দ্বিতীয় নারীর জন্য বড়সড় ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত তিনি। এই নিষিদ্ধ আকর্ষণের কারণে অনেক নারীই আকৃষ্ট হয় বিবাহিত পুরুষদের প্রতি।
অন্যদিকে, বাস্তব জীবনে অধিকাংশ মানুষই সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থিতি, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বস্তিকে গুরুত্ব দেন। তাই গবেষণাগুলোতে আকর্ষণের কথা বলা হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিবাহিত ও সহজ সম্পর্ককেই অনেক নারী বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন।
গবেষণার সীমাবদ্ধতাও আছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের গবেষণাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ মানুষের সম্পর্ক শুধু জীববিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সংস্কৃতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা, একাকীত্ব, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক পরিবেশ সবকিছুই এখানে প্রভাব ফেলে।
তাই বিবাহিত পুরুষ মানেই বেশি আকর্ষণীয়—এমন ধারণা যেমন ভুল, তেমনি এই প্রবণতাকে পুরোপুরি অস্বীকার করাও সহজ নয়। মানুষের মন অনেক সময় যুক্তির চেয়ে অনুভূতির দিকেই বেশি ঝোঁকে, আর সম্পর্কের জগৎকে রহস্যময় করে তোলে সেখানেই।