এম মহাসিন মিয়া (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বোয়ালখালী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচন ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে বোয়ালখালী বাজার ও আশপাশ।
তবে বাজার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রয়েছে গঠনতন্ত্র ও নিয়মবহির্ভূত বাজার নির্বাচন পরিচালনা করার অভিযোগ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাযায়, বাজার নির্বাচন তফসিল পরিবর্তীতে গিয়ে ভোটের আগের দিন ৩৪ জন ভোটার তৈরি করা হয়।
২৭ নভেম্বর (বুধবার) সকালে দীঘিনালা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়েছেন বোয়ালখালী বাজার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে ও ১৯৯৫ সালে পূর্বের বোয়ালখালী পুরাতন বাজার আগুনে পুড়ে যায়। পরপরই দু'বার আগুনে পুড়ে গেলে ১৯৯৭ সালে পুরাতন বোয়ালখালী বাজার স্থানান্তর করে বোয়ালখালী নতুন বাজার নামে বাজারটি প্রতিষ্ঠা করি। এই বাজারে ২৩ টি সরকারি খাস জায়গায় বন্দোবস্তী নিয়ে বসবাস করেছিলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের অন্যত্র জায়গা কিনে বসতঘরসহ তাদের পূর্ণবাসন করি৷ পরবর্তী এই বাজারে মাটি কেটে ৫০ টি দোকান দিয়ে বাজার কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০০৪ সালে বোয়ালখালী বাজারে জসীমের নেত্বত্বে আমাকে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ হতে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে অপসারণ করা হয়।অপসারনের পর দীর্ঘ ২০ বছর বাজারের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন প্লট দখলে নিয়ে পরিচালনা করে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাজার প্রতিষ্ঠার পর এই বাজার উচ্ছেদ করার জন্য জেলা প্রশাসক কতৃক উচ্ছেদ করার নির্দেশ আসলে সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভুইয়া আমাকে সবসময় দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। ২০০৫ সনে বাজার উচ্ছেদের আদেশ হলে তখন তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে উক্ত উচ্ছেদের আদেশ স্থগিত করে বাজার কার্যক্রম গতিশীল রাখেন।
এ সময় আরও দাবী করে বলা হয়, জসীম বাজার পুরো দখল করার জন্য আমাকে অনেকগুলো মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। আমার তৈরী করা বাজারের মাঠ দেখে জসীমের মাথা খারাপ হয়ে যায়। বাজার ফান্ড থেকে নামে বেনামে অন্যায়ভাবে বরাদ্দ নেয়। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে আমি দীঘিনালা এলাকায় না থাকায় বাজার ফান্ডে আমার নামে কোন প্লট নেই। তবে আমি ২০২৩ সনে একটি ৭৫ নং প্লট কিনেছিলাম। আমি আঞ্চলিক দলিল দাখিল করেছিলাম। এই রকম আঞ্চলিক দলিলে অনেকে ভোটার হয়েছেন তাহা সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বের হবে। দীর্ঘ ১৩টি বৎসর যেই বাজারের জন্য অমানবিক পরিশ্রম করলাম যার প্রমাণ দীঘিনালা আপামর জনগণ স্বাক্ষী আছেন। পরিকল্পিত ভাবে আমাকে সদস্য বা ভোটার না করে ২৮ নভেম্বর বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত নির্বাচন স্থগিত করে নতুন ভোটার প্রণয়ন তথা পুনরায় তফসীল ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচন দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
দীঘিনালা ও বোয়ালখালী বাজার চৌধুরী ও বোয়ালখালী নতুন বাজার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেসমিন চাকমা বলেন, বোয়ালখালী বাজার প্রতিষ্ঠিতা জাফর আহমেদ ভোটার হওয়ার জন্য যে নথিপত্র দিয়েছে সেগুলো অস্পষ্ট। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে সদস্য করা হয়নি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বোয়ালখালী বাজার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক বাজার ব্যাবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহমেদ। ভোটার হওয়ার আবেদন নথিপত্র সঠিক না হওয়া ভোটার করা যায়নি। নির্বাচন তফসিল পরবর্তীতে ভোটার হয়েছে। তবে নিয়ম মেনে করা হয়েছে।