খাগড়াছড়ির দুর্গম লোগাংয়ে সেনাবাহিনীর চিকিৎসাসেবা ও শীতবস্ত্র বিতরণ:

এম মহাসিন মিয়া, খাগড়াছড়ি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ ব্রিগেডের অধীন খাগড়াছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার দুর্গম লোগাং ইউনিয়নের পুজগাং এলাকায় দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে দায়িত্ববোধ থেকে খাগড়াছড়ি জোন ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমার পিতা অনিল চন্দ্র চাকমার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনিল চন্দ্র চাকমাকে খাগড়াছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পানছড়ি উপজেলার ২ নম্বর চেঙ্গী ইউনিয়নের বুদ্ধময় পাড়ার অনুপম চাকমাকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
এদিন দুর্গম লোগাং এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়, যা আসন্ন শীত মৌসুমে স্থানীয় জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে লোগাং ইউনিয়নের লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খাগড়াছড়ি জোনের উদ্যোগে একটি বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইনে আশপাশের এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের উদ্যোগে পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খেলার সামগ্রী বিতরণ, নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সেলাই মেশিন প্রদান এবং শীতার্তদের জন্য কম্বল বিতরণ করা হয়।
মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন, শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সেনাবাহিনীর পানছড়ি সাব-জোন কমান্ডার মেজর মো. জায়েদ-উর-রহমান অয়ন। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে খাগড়াছড়ি জোন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম খাগড়াছড়ি জোন নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।