প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৬:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
গণভোটের প্রচারণার জন্য কত কোটি পেয়েছিলেন, জানালেন রিফাত রশিদ
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ তছরুপের অভিযোগ অস্বীকার করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, গণভোটের প্রচারণা ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতেই অর্থ নেওয়া হয়েছিল এবং এর সব হিসাব যথাযথভাবে নিরীক্ষা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
রিফাত রশিদ বলেন, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈছাআর সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা তাদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ তছরুপের ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ অভিযোগ তুলেছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ করা অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে একটি তহবিলের প্রয়োজন ছিল। এ জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তায় সম্মত হয়। তবে বৈছাআ নিবন্ধিত সংগঠন না হওয়ায় সরাসরি অর্থ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে দ্রুত একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়।
রিফাতের দাবি, ওই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে শুরুতে সিনথিয়াও যুক্ত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেন। কিন্তু পরে তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান এবং ফাউন্ডেশনে থাকলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার হুমকি দেন। এরপর তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশন নিবন্ধন করা হয়।
অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৫ দিনের প্রচারণা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে সময় স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিবন্ধিত সেড ফাউন্ডেশনকে ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয়। সেই অর্থ দিয়েই দেশব্যাপী গণভোটের প্রচারণা পরিচালিত হয়।
তিনি আরও জানান, পুরো ব্যয়ের হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন, সিনথিয়াসহ কয়েকজন সাবেক নেতা সংগঠনকে হেয় করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কোনো তদন্ত সংস্থা চাইলে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত চার মাসে বৈছাআ একটি সাংগঠনিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। পূর্ববর্তী নেতৃত্ব নতুন কাঠামো নির্ধারণ না করায় মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। পরে সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ওই সময় সিনথিয়াকে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি তা সময়মতো সম্পন্ন করেননি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে একটি উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত