সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬

গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় ‘আবেদন’ করেও জবানবন্দি দেননি বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক  

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ‘আবেদন’ করেও তা দেননি। তবে মামলার অপর আসামি গৃহকর্মী মোছা. সুফিয়া খাতুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আজ আদালতে হাজির করা হয়। আসামি রাজি হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। কিন্তু বিচারকের খাসকামরায় গিয়ে সাফিকুর জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। অপর আসামি সুফিয়া জবানবন্দি দেন। পরে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ রিমান্ডে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তদন্তের স্বার্থে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে রাখা জরুরি।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি হলেন ওই বাসার গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।

১০ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রূপালী খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বাদী ওই গৃহকর্মীর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আসামি শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বীথির বাসার নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর (বাদী) পরিচয় হয়। সেই সূত্রে জাহাঙ্গীর জানতে পারেন, তাঁর একটি ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। তখন জাহাঙ্গীর তাঁকে জানান, এই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ে বাচ্চা খোঁজা হচ্ছে। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে সাফিকুর ও বীথির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানান, যাকে রাখবে, তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তাঁরা বহন করবেন। এতে রাজি হয়ে গত বছরের জুনে তিনি তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে এই বাসায় কাজে দেন।

সর্বাধিক পঠিত