প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১২, ২০২৬, ২:৪৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট
জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন। এ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় সরকারি হাসপাতাল থেকে। তবে ১৭ দিন ধরে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওষুধের দোকানেও সচরাচর মিলছে না এটি। দুই-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালগুলোয় এন্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন কার্যক্রম সচল রয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে জেলার ছয়টি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ছয় হাজার ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। তবে গত ১৭ দিন হাসপাতালগুলোয় ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। অনেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গড়ে প্রতিদিন ২০০ মানুষকে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হতো। কিন্তু এখন একজনও ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না।
ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমরা সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছি। ভ্যাকসিনের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। কোথাও যেন দাম বেশি নিতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাইরের ফার্মেসিগুলোয়ও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানি থেকে বেশ কয়েক মাস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ওষুধ বিক্রেতারা।
অবশ্য ক্রেতারা বলছেন, সংকটের সুযোগে ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন পাননি তার বাবা। অধিকাংশ ওষুধের দোকানেও ভ্যাকসিন নেই। একটি দোকানে পেয়েছেন, তবে ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন ৮০০ টাকায় কিনেছেন।
শহরের বাতাসাপট্টির নিউ নূপুর ফার্মেসির অমিত ঘোষ জানান, ছয় মাস ধরে কোম্পানিগুলো অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে না। তাদের কাছে ছয় মাস ধরে ভ্যাকসিন নেই। এ কারণে ওষুধের দোকানগুলোয়ও ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে।
জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তি র্যাবিস ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। ধীরে ধীরে এ ভাইরাস প্রান্তীয় স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। ফলে গলবিল ও খাদ্যনালির মাংসপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুও আক্রান্ত হয়। সাধারণত কামড়ানোর দুই-তিন মাসের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে এ সময়সীমা এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্তও হতে পারে।
জলাতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তি পানি দেখলে ভয় পায়। পানি বা খাবার গিলতে তাদের কষ্ট হয়। পিপাসা পেলেও পানি দেখলেই আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে পড়ে। আলো-বাতাসের সংস্পর্শে এলে এ ভীতি আরো বেড়ে যায়। তাদের আচরণেও কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। খিঁচুনিসহ মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা নিঃসৃত হয়। বিনা প্ররোচনায় অন্যকে আক্রমণ বা কামড় দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসা না পেলে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে হাসপাতালে ৬০০-৭০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হতো। এরপর সেটি কমিয়ে ২০০-৩০০ ডোজ করা হয়। কিন্তু এখন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কুকুর-বিড়ালসহ বন্যপ্রাণীর কামড়ে আক্রান্তরা ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। আমরা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত