সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, বাদী ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি – রহস্য ঘনীভূত!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বাদী মো. ফিরোজ খানকে তার রাজনৈতিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির চান্দগাঁও থানা শাখা থেকে স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন ৫নং মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ফিরোজ খানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে চান্দগাঁও থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দায়ের করেন ফিরোজ খান, যেখানে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর লালদীঘির মাঠে সনাতন জাগরণ মঞ্চের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন চট্টগ্রামের নিউমার্কেট জিরো পয়েন্টের স্তম্ভ এবং আশপাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর ইসকনের গেরুয়া রঙের পতাকা টাঙানো হয়। এ ঘটনায় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক অজয় দত্ত, ইসকন প্রবর্তকের অধ্যক্ষ লীলা রাজ ব্রহ্মচারী, গোপাল দাশ টিপু, ডা. কথক দাশ, প্রকৌশলী অমিত ধর, রনি দাশ, রাজীব দাশ, কৃষ্ণ কুমার দত্ত, জিকু চৌধুরী, নিউটন দে ববি, তুষার চক্রবর্তী রাজীব, মিথুন দে, রূপন ধর, রিমন দত্ত, সুকান্ত দাশ, বিশ্বজিৎ গুপ্ত, রাজেশ চৌধুরী এবং হৃদয় দাস। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামি রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাসকে নগরের সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ।

এই মামলার খবর প্রকাশের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী ফেসবুক লাইভে এসে বলেছেন, এই মামলাটি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র। তিনি সবার সহাবস্থান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সনাতনী সমাজের প্রতি ৮ দফা দাবির আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সর্বাধিক পঠিত