আর তরুণেরা নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কতটা প্রচেষ্টা নিচ্ছেন, সেটিও একটি প্রশ্ন। কারণ, যোগ্য প্রার্থীর সংকট আছেই।
এরপর চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিও এখনো পূরণ হয়নি। বিশ্বের বহু দেশে যেখানে ৪০ বছর বয়সেও চাকরিতে ঢোকার সুযোগ আছে, সেখানে বাংলাদেশে বয়স যেন এক অদৃশ্য প্রাচীর।
একজন তরুণ স্নাতক শেষ করে কিছু বছর প্রাইভেট জব করে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে সরকারি চাকরিতে ঢুকলে তেমন অসুবিধা দেখি না।
আমাদের দেশে চাকরির আবেদন করতে গেলেও খরচ কম নয়। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে। একজন বেকারের জন্য চাকরির আবেদন ফি, যাতায়াত, থাকা–খাওয়ার খরচই হয়ে ওঠে মানসিক ও আর্থিক বোঝা।
আর আবেদনপত্রের সঙ্গে কত কিছু যে তারা প্রত্যাশা করে, তার কোনো শেষ নেই! প্রতিটি আবেদন যেন এক যুদ্ধ, যার ফলাফল পুরোপুরি অনিশ্চিত।
গবেষণা বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীর বড় অংশই চাকরির বাজারে পিছিয়ে।
সরকারি টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে; কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বেকারত্ব শুধু জাতীয় নয়, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের জন্য সমান যন্ত্রণা।
শিক্ষিতদের তো আগে চাকরি পাওয়ার কথা; কিন্তু হচ্ছে এর উল্টো। গত সেপ্টেম্বরের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি।
বেকারের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী, আর ৭ দশমিক ১ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পাস।
অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন বেকারের একজনই স্নাতক বা উচ্চমাধ্যমিক সনদধারী। যাঁদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাঁদের বেকারত্ব সবচেয়ে কম, মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এরাই ভালো, মাঠেঘাটে কাজ করছেন। রোজগার করে চলছেন। অন্তত বেকারত্বের খাতা থেকে নাম তো কাটতে পেরেছেন।
বেকারের সংজ্ঞা কী? আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, সপ্তাহে এক ঘণ্টা মজুরি পেলেই কাউকে ‘বেকার’ বলা যায় না। এই মানদণ্ডে বাংলাদেশের বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার।
কিন্তু বাস্তবে সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে কারও জীবন চলে না। মনমতো কাজ না পাওয়া প্রায় এক কোটি মানুষ ‘ছদ্মবেকার’।
উন্নত দেশে সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেও রাষ্ট্র বেকার ভাতা দেয়। বাংলাদেশে তার কোনো ধারণাই নেই। তরুণেরা এখানে শুধু টিকে থাকেন, ভালো থাকেন না। পরবর্তী লেখায় বেকার ভাতা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা জানিয়ে রাখলাম।