সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

ছবি-ভিডিও দিয়ে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ আবু ত্বহার স্ত্রীর

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

জারিন জাবিন নামে এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের সম্পর্কের অভিযোগের পর এবার তাদের ছবি প্রকাশ করেছেন ত্বহার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার।

ওই পোস্টে সাবিকুন নাহার লিখেছেন, ‘ভক্তগণ যে আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে আমার অতীত জীবনের ছেড়ে আসা ভুল, অন্যায়, কলঙ্ক যা-ই বলি না কেন সামনে এনে একজন বর্তমান অপরাধীকে নিষ্কলুষ বানাচ্ছেন— এটা কি আহকামুল হাকিমিনের কাঠগড়ায় আদৌ মার্জনীয়? আপনারা তো আমার অতীতের অপবিত্রতা দ্বারা তার বর্তমান অপবিত্রতা ঢাকতে চাচ্ছেন মাত্র। তবে সত্যের প্রভাব তো দুর্দমনীয়, ওপরে যা-ই বলা হোক না কেন। ভক্তরা বলছেন ৩-৪ আরো বিয়ে করবে সমস্যা কোথায়? আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন— কত মেয়ের সাথে তিনি কথা বলবেন। পিক নেবেন, একান্তে বসবেন, প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নামে ইন্টারভিউ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করবেন, কত মেয়ের সাথে আর কত বছর? অতঃপর ছুলাছা রুবায়ার দাবি থেকে এ যোগাযোগ, অনুভূতির আদান-প্রদান হালাল থেকে হারাম হবে? কত বছর পর? কত মেয়ের সাথে সময় কাটানোর পর।’
একাধিক মেয়ের সঙ্গে ত্বহার যোগাযোগ ছিল অভিযোগ করে সাবিকুন নাহার বলেন, ‘দুই বছর আগে রংপুরের এক মেয়ের সাথে অনেক দিন হোয়াটসঅ্যাপে কানেক্ট থেকে আমার বেবির দেখাশোনার নাম করে মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলা, পিক নেওয়া, অতঃপর আমাকে প্রেসার দেওয়া- এ মেয়েকে আসার সময় বাসায় নিয়ে আসবে সে তার সাথে। আমার বেবি দেখাশোনা করবে এ অজুহাতে আমাকে পাগল করা। তার বিশ্বস্ত ইয়ামিন জানে না? আমি কি ওদের প্রমাণ দিইনি? মেয়েটার পিক চেয়ে নিল, তার প্রশংসা করল নিজ চোখে দেখলাম এবং আবার বিয়ে করতে কেমন পাত্র চায় জিজ্ঞেস করল, এরপরও অনেক দিন এ মেয়ের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখল। ইয়ামিন নিজ মুখে বলেছে, আপু মেয়েটাকে সরাইছি, ভাই আমার ওপর নারাজ।এর ভেতরেও আছে কত কথা কয়টা লিখব।’
আরেক মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন জানিয়ে সাবিকুন নাহার বলেন, ‘এর পরপরই শুরু করল আরেক মেয়ে নিয়ে মেয়ের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী তার মায়ের জন্য টাকা উঠায় আর এ সুবাদে মেয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ তবে এখানে ঐ মেয়েটার ইনটেনশন খারাপ ছিলো না তবে আদনান জনাবের উদ্দেশ্য ছিলো মেয়েটা অবিবাহিত অল্প বয়স কোনোভাবে তার বাগে আনা যায় কিনা, মেয়েটাকে নিজ দায়িত্বে ঢাকায় আনা সব খরচ বহন করা আমাকে কোনো একসেস না দেয়া, আমি চেয়েছিলাম ওকে যদি হেল্পই উদ্দেশ্য হয় তবে মেয়েদেরকে আমাকে ডিল করতে দাও কিন্তু না সে এ মেয়ের সাথে কত কত মাস যোগাযোগ রেখেছে। সে কি আস্ফালন ছিলো এ মেয়েকে পাওয়ার পর তার কতটুকু লিখে বোঝানো যায়!

তৃতীয় আরেকটি মেয়ে প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারপর আবার আরেক মেয়েকে মাদ্রাসা করে দেয়া সঙ্গত কারণেই এ মেয়ের ডিটেইলস বললাম না স্থানও না। কারণ মেয়েটার বিয়ে হয়ে গিয়েছে জানি। এদের সবার সাথে তার হালাল সম্পর্ক! ওকে মেনেও যদি নেই তবুও কি তার এভাবে মেয়েদের সাথে নানা ইস্যু ক্রিয়েট করে জুড়ে থাকা উচিত? যেখানে সে নিজেই বলে তার নারী সংক্রান্ত সমস্যা আছে, মাহরাম দেখলেও প্রবলেম হয়।

শোয়াইব হুজুর আছে একজন তাকে সে এসব শেয়ারও করেছে, আমি জানি কেউই মুখ খুলবেনা, কারণ আপনাদের গালি খেতে চায়না কেউ। প্রয়োজনে সত্য মরে যাক মিথ্যার জয় হোক তবুও তারা কেউই কথা বলবেনা।’

রাস্তায় মেয়ে দেখলেও মাশাল্লাহ বলেন ত্বহা, এমনই অভিযোগ সাবিকুন নাহারের।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মেয়ে দেখলে আমি পাশে থাকা সত্ত্বেও সুবহানাল্লাহ, মাশাল্লাহ বলা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা তার এ ক্যারেক্টার এর কথা কে না জানে। কিন্তু কেউ বলবেনা। তাঁর নজর হেফাজত না করার কারণে সে ধ্বংস হয়েছে। আমি আমার পরিবার আমার গোছানো সংসার আমার দুটো বেবি ছন্নছাড়া আজ। আমি তার জন্য কি করিনি! ৫ বছরের সংসার জীবনে আজও তাকে আমি নতুন বরের মতো ট্রিট করি, সাজাই, এতোকিছুর পরও সবঠিক হয়ে যাওয়ার আশায় রঙিন রেখেছিলাম। তার কেনো কারো প্রেম লাগবে, প্রেমিকা লাগবে! সে মানুষকে বলে আমি তাকে কষ্ট দিয়েছি এর উত্তর কি জানেন! যে পুরুষের চোখে নতুন নারীর লিপ্সা তার জন্য নিজ স্ত্রীর অগাধ ভালোবাসাই যন্ত্রণা।’

কাজের মেয়ের সঙ্গেও কথা বলেন জানিয়ে সাবিকুন নাহার বলেন, পাশে থাকতে চাওয়াই যন্ত্রণা, কাছে থাকাই যন্ত্রণা। দ্যান আরেক মেয়ে আমার মাদ্রাসায় নার্সারির বাচ্চাদের পড়ায় আবার আমার বাসায়ও কাজ করে সে মেয়েকে টাকা হাদিয়া দেয় কিছু লাগলে তাকে বলতে বলে তার নাম্বার দেয়। তারপর থেকে শুরু হয় এ মেয়ের সাথে। মেয়ে কাজে আসলে তার অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়। আমি কিছুটা গেস করি কিন্তু বাদ দেই। অতঃপর একদিন আমার সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় আমাকে আদনান সাহেব থ্রেট দেয় ‘এমন কিছু করবো যা কল্পনাও করতে পারবা না’। আমি কিছুটা সন্দেহ করি। তারপর তার ফোনে দেখি এ কাজের মেয়ে সাথে ১৮ মিনিট কথা, এ মেয়ের আবার সেকি অভিমান ভরা মেসেজ যেখানে লিখা আমি আপনার উপর রাগ আছি।

 

সর্বাধিক পঠিত