চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছেন সিবগাতুল্লাহ। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রশিবিরের সদস্য সম্মেলন-২০২৫-এ সংগঠনের সদস্যদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের পরামর্শক্রমে সাহিত্য সম্পাদক সিবগাতুল্লাহকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করা হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি সর্বশেষ শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতি কোনো মিথ্যাচার বিশ্বাস করবে না রাজনীতির ইতিহাসে এটা একটা মহাসত্য। ছাত্রশিবিরের এই আদর্শবাদী আন্দোলনকে যখন একদল শক্তি যুক্তি দিয়ে, আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয় তখন মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের অন্ধকারের পথ তারা বেছে নেয়। ইসলামী ছাত্রশিবির তথা আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামী জনতার সংগ্রামকে ঠেকাবার জন্য সন্ত্রাস দিয়ে যখন তারা পারেনি তখন তারা মিথ্যাচার, অপপ্রচার, নানান প্রযুক্তি দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করে আমাদের আবার সেই পেছনে ঠেলে দিতে চায়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিদায়ী সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হবে। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান তরুণ সমাজের মধ্যে যে আদর্শিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে মানবিক সত্তাহীন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় এবং ‘শিবির মানেই হত্যাযোগ্য’ এমন ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করা হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রশাসন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দমন করা হয়। এসবের প্রতিবাদেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণআন্দোলন বিস্ফোরিত হয় এবং শেখ হাসিনার শাসনের পতন ঘটে। তরুণদের আত্মত্যাগ নতুন আদর্শিক জাগরণ সৃষ্টি করে, যা ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।