প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৭, ২০২৬, ৭:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৭, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলে ঘুরে বেড়ানোদের ছাড়া হবে না: শুভেন্দু
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক:
যারা মা, বোন, দিদি, শিশু কন্যাদের উপর শারীরিক নির্যাতন করে এখনও বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরও ছাড়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর শনিবার (১৬ মে) প্রথম জেলা সফরে বেরিয়ে এক প্রকাশ্য জনসভায় এমন মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সফরে প্রথমে ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানে জেলার পুলিশ প্রশাসনের সব কর্মকর্তারাদের পাশাপাশি ওই বৈঠকে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা), এডিজিসহ (দক্ষিণবঙ্গ) শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সব জেলার পুলিশ সুপাররা। ওই বৈঠক থেকে করা বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বৈঠকে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে যে ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ ছিল সেটি ভেঙে দেয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল পরবর্তীতে এটি একটি নির্দিষ্ট দলের শাখা সংগঠনের পরিণত হয়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর হতে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ নেয়া হবে পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সোজা চলে যান ফলতায়। সেখানে এদিন বিকালে একটি কর্মীসভায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে এক লাখের বেশি ভোটে জেতার আহ্বান জানান শুভেন্দু। বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। নির্বাচনী সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার সবটাই পূরণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
একসময় আইনশৃঙ্খলা রোধে কঠোর বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের কোনো নেতাকর্মী যদি ঘর ছাড়া থাকে তাদের বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এবং পুলিশ সুপারের। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটাই শর্ত- ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যেন তার নাম না থাকে। তার বার্তা, কোনো গুন্ডা বাড়িতে থাকবে না। মানুষ অভিযোগ জানাতে আসলে, এফআইআর করতে আসলে তা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেয়ার নাম করে যারা ঘুষ নিয়েছে তাদেরকে জেলে পড়তে হবে। আর যারা মা, বোন, দিদি, শিশু কন্যাদের উপর শারীরিক নির্যাতন করে এখনও বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরও ছাড়া হবে না।
গত ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোটে অশান্তি, একাধিক কারচুপির অভিযোগে ফলতা বিধানসভা আসনটিতে ফের নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট নেয়া হবে এই আসনের ১৮৫টি বুথে। আগামী ২১ মে এই আসনটিতে ভোট নেয়া হবে। ১৯ মে শেষ প্রচার। ২৪ মে ভোট গণনা। তার আগে শনিবার ফলতাতে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত