সারাক্ষণ বাবার ছায়াসঙ্গী হয়ে আলোচনায় এসেছেন জাইমা রহমান। বিএনপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারেক রহমানও এক সময় এভাবে মা খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ছিলেন। ছেলেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে নিজের সঙ্গে রাখতেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। জাইমার গতিবিধিও একই।
গত ২৩ নভেম্বর ফেসবুক পোস্টে জাইমা লিখেছিলেন, ‘লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে শিখেছি মানুষের সমস্যার যৌক্তিক ও আইনগত সমাধান খোঁজা।’
আশাবাদী অধ্যাপক সেলিম বলেন, বাংলাদেশে মতো দেশের রাজনীতিতে উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যম এবং ধৈর্য ধরে যৌক্তিক সমাধান খোঁজা নেতৃত্বের অন্যতম গুণাবলী। সত্যিই রাজনীতিতে এলে জাইমা রহমান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে আমি আশা করি।
বিএনপির দলীয় ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেভাবে জাইমা রহমান এখন তাঁর বাবার ছায়াসঙ্গী হচ্ছেন; নব্বইয়ের দশকে একইভাবে তারেক রহমানকে রাজনীতির ময়দানে হাতেখড়ি দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী থানা কমিটির সদস্য হন তারেক রহমান। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া তাঁকে নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া চষে বেড়ান।
বাংলাদেশে মতো দেশের রাজনীতিতে উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন।... সত্যিই রাজনীতিতে এলে জাইমা রহমান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে আমি আশা করি।অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ঘুরছে। তাতে দেখা যায়, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ ৩১ ডিসেম্বর সকালে গুলশানের বাসভবনে আনা হয়। সেখানে চেয়ারে বসা তারেক রহমান, তাঁকে ঘিরে পরিবারের সদস্য ও নেতারা। বিমর্ষ বাবার কাঁধে হাত জাইমার, যেন আরেক মা সান্ত্বনা দিচ্ছেন। এ সময় জাইমাকে অন্যদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায়।
কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। তাঁর বাবা পিয়েরে ট্রুডো দেশটির দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জাস্টিন ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সান্নিধ্য পেয়েছেন, যা তাঁকে দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
একইভাবে ভারতের নেহেরু-গান্ধী পরিবারে ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে রাজীব গান্ধী, কিংবা পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ এবং বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো—সবারই রাজনীতিতে পদার্পণ ঘটেছে বাবা বা মায়ের হাত ধরে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিভাবকদের এই ‘প্রটোকল’ বা ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকাটাই মূলত উত্তরসূরিদের আগামীর নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার একটি বিশ্বজনীন কৌশল।
গত ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জাইমা রহমানকে বাবার ঠিক পরের আসনেই দেখা গেছে। এর পরে বসেছিলেন বিএনপির নেতারা।
আমি দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই।জাইমা রহমান, ফেসবুক পোস্টে
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর যখন তারেক রহমানের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা তুলে দিচ্ছিলেন, তখন জাইমা ছিলেন তাঁর ঠিক পাশে। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অংশ নিয়ে জাইমা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির পক্ষ থেকে শক্তিশালী বার্তা দেন।