সোমবার, মে ১১, ২০২৬

জামাত ও আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের স্কুল ফটকে তালা, বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধার অভিযোগ

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা বিজয় দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দ্বীপের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মওলানা নুরুল আলম আরমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে ফুল নিয়ে স্কুল ফটকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার পর ফিরে যেতে বাধ্য হন। তিনি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ করেন, ‘বিদ্যালয়ে কর্মরত আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরিকল্পিতভাবে ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়ার কারণে শহীদ মিনারের পাদদেশে ফুল দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

বিষয়টি নিয়ে দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মওলানা নুরুল আলম আরমান সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘সেন্টমার্টিন বিএন ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয়ের জামাত ও আওয়ামী পন্থী শিক্ষকরা ষড়যন্ত্র করে গেটে তালা দিয়ে রেখে সেন্ট মার্টিন বিএনপিকে মহান বিজয় দিবসের ফুল দিতে দেয় নাই। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের কাছে আকুল আবেদন তদন্তপূর্বক দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইননানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কি।’

তিনি জানান, ‘শিক্ষক ও কর্মচারীরা রাতে ফটকে তালা লাগিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। ফটকের বাইরে অপেক্ষমান বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেক ডাকাডাকি করেও তাদের সাড়া না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এক হয়ে এমন ষড়যন্ত্র করেন বলে তার অভিযোগ। বিএনপি নেতা নুরল আলম আরমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মাহবুব উল্লাহ হচ্ছেন দ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক, নাইট গার্ড মুজিবুর রহমান স্হানীয় আওয়ামী শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তরী (এমএলএসএস) মোহাম্মদ ইসমাইল হচ্ছেন দ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থক।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মদন কান্তি রুদ্র বলেন, ‘আমি সারা দিন মাইকিং করিয়েছি মধ্য রাতে শহীদ মিনারে আসার জন্য।

বাস্তবে পরিকল্পিত না হলেও তালা লাগানো ছিল, তবে তা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা।’ তিনি আরো বলেন, ‘এমএলএসএস মোহাম্মদ ইসমাইল ফটকে তালা লাগিয়ে বাজারে গিয়েছিল। সেখান থেকে আসতে বিলম্ব হওয়ার কারণে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটে। ততক্ষণে বিএনপির নেতাকর্মীরা গেইট বন্ধ থেকে ফিরে গিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে চলে যান।’ তিনি এমএলএসএসকে শোকজ নোটিশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত