মুহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, টেকনাফ।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় অপহরণ বন্ধ ও পাহাড়কেন্দ্রিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মেজর সিনহা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্ল্যাকার্ড–ফেস্টুন হাতে উপস্থিত হয়ে অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
গত রবিবার সন্ধ্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পূর্বপাড়ায় খেলার সময় ছয় শিশু-কিশোরকে অপহরণ করে পাহাড়কেন্দ্রিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে দুইজন কৌশলে পালিয়ে এলেও চারজন এখনও জিম্মি রয়েছে। এর আগেও একই এলাকায় একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহারছড়া এলাকায় গত কয়েক মাসে অপহরণের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। শুধুমাত্র গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৬৪ জন অপহৃত হয়েছে; তাদের বেশিরভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
তবে জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মাসে এলাকায় ২৭২ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই ফেরত এলেও এখনো কতজন জিম্মি রয়েছেন, সে তথ্য পুলিশের কাছে নেই।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, অপহরণ-সন্ত্রাসে টেকনাফবাসীর জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান প্রয়োজন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফের সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বলেন,আর কোনো অপহরণের ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের অপহৃত ভাইদের দ্রুত ফেরত চাই। বসবাস অনিরাপদ হয়ে উঠেছে এখন বিশেষ অভিযান ছাড়া উপায় নেই।
শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টেকনাফ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম এ মঞ্জুর বলেন,বাহারছড়া একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। অপহরণের ঘটনায় পর্যটক আসতে ভয় পাচ্ছেন। নারী-শিশুসহ সবাই অনিরাপদ। আমরা আর আতঙ্কে থাকতে চাই না।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ৫০ হাজার মানুষের এলাকায় অপহরণকারী সর্বোচ্চ ১০০ জন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে তারা কিছুই করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালালে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
অবরোধের খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন,
অপহরণ বন্ধের দাবিতে আপনাদের আন্দোলন যৌক্তিক। আমরা তা সমর্থন করি। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। তবে সড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি না বাড়ানোর অনুরোধ করছি।