
সাইদুল ফরহাদ :
কক্সবাজারের টেকনাফে শামীম (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং কুতুবদিয়া পাড়ায় নিজ খামারবাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক শামীম কক্সবাজার ডিসি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুতুবদিয়া পাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে।
টেকনাফ থানা পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ১০টার দিকে শামীমের খামারবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার হেফাজতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শামীমের পরিবার বলছে, শামীম পড়াশোনার কারণে কক্সবাজারে থাকে। ঘটনাটির আগের দিনই সে বাড়িতে আসে। তাকে ইয়াবা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তাদের দাবি-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় মাদককারবারি আবছার পাহাড়ের নিচে একটি মুরগির ফার্মে ইয়াবার বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেই জায়গা থেকেই শামীমকে আটক দেখানো হয়।
এই ঘটনার পর ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকে লিখেছেন, “নির্দোষ ছাত্রকে ফাঁসানো হয়েছে, প্রকৃত অপরাধীকে ধরুন।”
টেকনাফ ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোস্তফা কামাল মানিক তার পোস্টে বলেন, “শামীম ভদ্র, নম্র ও মেধাবী ছাত্র। তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়ীর পরিচয় বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও লিখেন তিনি।” এছাড়া সাসাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করে নিন্দা জানিয়েছেন।
শামীমের বাবা আব্দুল আজিজ বলেন, “আমার ছেলে কখনও মাদকের সংস্পর্শে যায়নি। তদন্ত করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। সে সম্পূর্ণ নির্দোষ তাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। শামীমের হেফাজত থেকেই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি নির্দোষ একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার আগে ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।
