প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৬, ২০২৬, ৩:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৩, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
টেকনাফে দুই বছর ধরে নিখোঁজ তিন কিশোর; মামলা হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে দালাল আবুল কালাম ও ইব্রাহিম
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনছিপ্রাং রইক্যং এলাকায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তিন কিশোরকে পাচারের অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম ও ইব্রাহিম নামের এক দালালের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে তিনি এলাকার তরুণ ও কিশোরদের বিদেশে নেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে পাচার করছেন। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে আবুল কালাম ও ইব্রাহিম স্থানীয় উঠতি বয়সী ছেলেদের মালয়েশিয়ায় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের চামেলিয়া নামক একটি প্রদেশে নিয়ে গিয়ে দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা আদৌ জীবিত আছে কি-না কিংবা তাদের শেষ পরিণতি কি হয়েছে তা জানা নেই কারো।
দুই বছরেও নেই কোনো খোঁজ নেই তিন কিশোরের।
এই চক্রের মাধ্যমে পাচারের শিকার হন মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (১৪) এবং মোক্তার আহমেদের ছেলে মো. রাসেল (১৬) একই এলাকার বাসিন্দা রেদোয়ান (১৫)।পরিবারের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তাদের মিয়ানমারের চামেলিয়া এলাকায় দালালদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত ওই দুই কিশোরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবার এখনো সন্তানদের ফেরার আশায় দিন গুনছেন।মামলা হলেও গ্রেপ্তার নয় দালাল চক্রের সদস্য!
এই ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম ও ইব্রাহিম তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে মামলা হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ইব্রাহিমকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
নতুন করে পাচারের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী রেদোয়ানের বাবা শামসুল আলম বলেন, আমরা খুব অসহায় পরিবার, কৃষি ও চিংড়ি ঘেরে কাজ করে কোন রকম সংসারের খরচ জোগাড় করি। এরমধ্যে প্রায় ২বছর আগে আমার ছেলে রেদোয়ানসহ আরও দুজনকে একটি এনজিওতে ট্রেনিংয়ের কথা বলে টেকনাফ পাঠানো নিয়ে দালাল আবুল কালাম, মো. ইব্রাহিম, নুর হোসেনসহ দালাল চক্র। পরে তারা আর ফিরেনি পরে শুনেছি তাদের মালয়েশিয়া পাচারের জন্য সাগরে ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জানাজানি হলে দালাল চক্র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে, আপনাদের ছেলে আমাদের কাছে আছে। তাদেরকে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠানো হচ্ছে। তাই জনপ্রতি আগে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। মালয়েশিয়া পৌঁছালে বাকি আরও দুই লাখ দিতে হবে। এভাবে বলার পরে দালালদের সন্তানের জন্য তিনজনের জন্য ৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরেও এখনো তাদের কোনো খোঁজ খবর নেই।
এই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধীকেও পাচারের অভিযোগ উঠে।
এলাকাবাসীর দাবি, মামলা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ইব্রাহিম প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি আবারও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরদের টার্গেট করে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বলেন, এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচলনা করা হবে।আসামিরা গা ডাকা দেওয়ার কারণে তাদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত