কেফায়েত উল্লাহ, টেকনাফ।
টেকনাফে পাহাড়ে অবস্থানকারী একাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গ্রুপের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্ত জনপদজুড়ে। শরণার্থী ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপতৎপরতায় পাহাড়ঘেঁষা এলাকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোয়াইক্যং রইক্ষ্যং পাহাড়, কম্বনিয়া পাড়া, শিয়াইল্যা পাহাড়, মরিচ্যাঘোনা–হ্নীলা পানখালী পাহাড়, উলুচামরী, রঙ্গিখালী, আলীখালী, লেদা পাহাড়, মোচনী, নয়াপাড়া ও জাদিমোরা শালবাগান পাহাড় এলাকায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ও কতিপয় স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্র লোকালয়ে থাকা দোসরদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া পাড়া, ঝিমংখালী ও মিনাবাজার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে ৬ জন কৃষককে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
অপহৃতরা সবাই হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন,মোহাম্মদ জমির (৩০),
মোহাম্মদ মুন্না (২৫),মোহাম্মদ আলম (৩০),মোহাম্মদ রফিক (৩৫), মোহাম্মদ মোজাহার (৫০)ও মোস্তাক আহমেদ (২৭)।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ওই কৃষকরা পাহাড়ের পাদদেশে কৃষিকাজ ও জ্বালানি লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় হঠাৎ সশস্ত্র পাহাড়ি ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে গহীন পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায়
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃষকরা কাজ করতে গেলে সশস্ত্র ডাকাত দল তাদের তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা পাহাড়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অপহৃতদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ বিষয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, ৬ জন কৃষক নিখোঁজ হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। তারা পাহাড়ে কৃষিকাজ ও লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী কাজ শুরু করেছে। পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।