প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৭, ২০২৬, ৭:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
টেকনাফ থেকে ঈদগাঁও: এসআই বদিউল আলমের ভয়ঙ্কর গল্প—অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈদগাঁও:
কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানা এলাকায় সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে উপপরিদর্শক বদিউল আলম এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা শুধু স্থানীয় সচেতন জনগণকে নয়, জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সাথে প্রকাশিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের তথ্য, যা তাকে সাধারণ জনগণের কাছে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত করেছে।
ঈদগাঁওয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা
১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঈদগাঁও-বাইশারী রোডে একটি সিএনজি থামিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি অস্ত্র গাড়ির পেছনে রাখা হয়। পরে সেই অস্ত্র “উদ্ধার” দেখিয়ে চালককে অস্ত্র মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে এসআই বদিউল আলম, কনস্টেবল তানভীর, কনস্টেবল মহিন ও কনস্টেবল মনিরের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজে পুরো পরিকল্পনাটি দৃশ্যমান রয়েছে। পরিবার অভিযোগ করেছে এটি পরিকল্পিত ও ঘুষ-চুক্তিভিত্তিক ফাঁসানো মামলা।
বদিউল আলমের টেকনাফে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড
বাংলা দৈনিক যুগান্তর ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, “টেকনাফের মূর্তিমান আতঙ্ক এসআই বদিউল”, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি দায়িত্ব পালনের সময় টেকনাফের বিভিন্ন পরিবারকে মাদক কারবারি বা মানব পাচারকারী হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কিত অভিযোগ রয়েছে। (যুগান্তর)
প্রতিবেদন অনুসারে:
তিনি দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ ডায়েরির বিরোধ, জমির বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি অপরাধীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে তাদের সহায়তা করেছেন।
হাইকোর্টের নজর
১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছে, টেকনাফ মডেল থানার ওসি এবং এসআই বদিউল আলমকে কেন প্রত্যাহার করা হবে না, এবং তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কেন গঠন করা হবে না। (বার্তা বাজার)
জনগণের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে বদিউল আলমের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে ভয় তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে অপরাধীদের সহযোগিতা করেছেন এবং নিরীহ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। এর ফলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। (যুগান্তর)
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ ঈদগাঁওয়ের অস্ত্র ফাঁসানোর ঘটনায় এসআই বদিউল আলম মূল অভিযুক্ত। একই সাথে তার টেকনাফের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং হাইকোর্টের রুল এটিকে শুধু একটি স্থানীয় অপরাধ নয়, আইনের প্রতি আস্থা এবং পুলিশের দায়িত্বশীলতার একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত