চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ডিজিটাল মাধ্যমে দুর্নীতির বিস্তার রোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘ডিজিটাল ফরেনসিক, ফরেনসিক অ্যানালাইসিস, ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি’ শীর্ষক এই কর্মশালায় দুদকের ৪০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালার প্রথম দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক আল-আমিন ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে দিনব্যাপী সেশন পরিচালনা করেন। তিনি ফরেনসিক হিসাবরক্ষণের খুঁটিনাটি, আর্থিক জালিয়াতি শনাক্তকরণ পদ্ধতি, তদন্ত কৌশল এবং পুঁজিবাজারে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
শেষ দিনে ডিজিটাল স্পেস, ডিজিটাল কারেন্সি, ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন মালয়েশিয়ার মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এরশাদুল করিম। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির নানা আইনি দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া উন্মুক্ত সোর্স ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ চিহ্নিত করার কৌশল এবং উন্মুক্ত উপাত্তের বিভিন্ন তথ্যভান্ডার নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার সমাপনী অধিবেশনে কর্মকর্তাদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন দুদক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় টিআইবির উপদেষ্টা ও নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে টিআইবি সব সময় দুদকের সহযোগী শক্তি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি দমনে টিআইবি দুদকের অন্যতম শক্তিশালী মিত্র। টিআইবি যত ভালোভাবে নিজেদের কাজ করতে পারবে, দুদকের কাজ তত সহজ হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুদকের কার্যক্রম আগের চেয়ে গতিশীল ও সক্রিয় হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক। তবে আপনাদের কাজের মধ্য দিয়ে দুদকের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। টিআইবি সব সময় শক্তিশালী ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন দেখতে চায়। তাই দুদকের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা চলমান থাকবে।’