দাগনভূঞায় পারিবারিক কলহের বলি গৃহবধূ, ঝগড়ার জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে মারলেন স্বামী

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে রাজাপুর এলাকার একটি মসজিদের কোয়ার্টারে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম সাবিনা আক্তার। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ ফয়সল পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সাবিনা আক্তার কুমিল্লার বুড়িচং থানার ইছাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. মোমেন ও লুতফা বেগমের মেয়ে। কয়েক বছর আগে মোহাম্মদ ফয়সলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁরা বর্তমানে দাগনভূঞার রাজাপুর এলাকার বাইতুল শরীফ মসজিদ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে সোমবার ভোরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ঝগড়া চরম আকার ধারণ করলে স্বামী ফয়সল ক্ষিপ্ত হয়ে সাবিনার মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেন। সাবিনা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
পুলিশ জানিয়েছে নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে যা থেকে বোঝা যায় যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে। হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে সাবিনার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাবিনার বাবা মো. মোমেন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমরা আমাদের মেয়েকে তাঁর স্বামীর কাছে ভালো থাকার জন্য পাঠিয়েছিলাম। তুচ্ছ কারণে এভাবে তাকে মেরে ফেলা হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতক স্বামী ফয়সলের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। নিহতের মাথায় আঘাত করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
মসজিদ কোয়ার্টারের বাসিন্দারা জানিয়েছেন ফয়সল ও সাবিনার মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। তবে সেটি খুনের পর্যায়ে পৌঁছাবে তা কেউ ধারণা করতে পারেননি। স্থানীয়রা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন পারিবারিক সহিংসতা রোধে সামাজিক সচেতনতা ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
আবেগের বশবর্তী হয়ে সামান্য কলহ যে কতটা ভয়াবহ পরিণাম বয়ে আনতে পারে, সাবিনা আক্তারের এই অকাল মৃত্যু তারই একটি প্রমাণ। আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের তৎপরতার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হওয়াই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি।