
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এই খাবারটি আপনি খাচ্ছেন, আমি খাচ্ছি, আপনার পরিবারের সদস্য আপনার সঙ্গে থাকছে, তারাও খাচ্ছে। কাজেই এটির প্রতিও আমাদের নজর রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। ইচ্ছামতো যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা মজুদদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার রাখতে হবে।’
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটিই সরাসরি আনুষ্ঠানিক সভা। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যাঁর অবস্থানে থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারির পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনের যাঁরা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই আপনাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। আমরা অবস্থার পরিবর্তন করছি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি, লুটপাট রাষ্ট্র ও জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশকে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। প্রতিটি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায়, সরকার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে চাই। এ ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। এ নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয়ের কারণ নেই।’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—এ কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের ডিসি সম্মেলনে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে। চার দিনের এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৬ মে।