পেট্রল : পেট্রল মজুদ আছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন। তা দিয়ে ১১ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে।
ফার্নেস তেল : ফার্নেস তেলের মজুদ আছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন। তা দিয়ে ২৯ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
জেট ফুয়েল : জেট ফুয়েলের মজুদ আছে ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন। যা ২৩ দিন সরবরাহ করা যাবে।
কেরোসিন : কেরোসিনের মজুদ আছে ৮ হাজার ৫৭১ টন। যা দিয়ে ৪৬ দিন সরবরাহ করা যাবে।
মেরিন ফুয়েল : মেরিন ফুয়েল রয়েছে প্রায় দেড় হাজার টন। তা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।এদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে আরো ১৭-১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান সময়মতো না এলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
চাপের তিন কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে তিনটি বড় চাপ একসঙ্গে কাজ করছে—
১. জাহাজ আসতে বিলম্ব
২. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
৩. আতঙ্কে চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই নৌপথ বন্ধ হয়ে পড়লে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কোনো সংকট হবে না।
তিনি জানান, হঠাৎ তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তাই জনগণকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তবে, সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হলেও বাজারে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। তেলের পাম্পগুলোর কোনোটি বন্ধ রয়েছে আবার কোনোটি সরবরাহ চালু থাকলেও দেওয়া হচ্ছে চাহিদার তুলনায় সীমিত পরিমাণ তেল। আমদানি স্বাভাবিক না হলে এবং আতঙ্কজনিত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরো চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।