ডব্লিউএমও জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র খরার ঝুঁকি রয়েছে। একইসঙ্গে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও বাড়বে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব অতীতের তুলনায় আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ইতোমধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ফলে অতিরিক্ত উষ্ণ পৃথিবীতে এল নিনোর প্রভাব খরা, দাবদাহ ও বন আগুনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, খাদ্য সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং পানির সংকট তীব্র হতে পারে। একইসঙ্গে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব চেলেস্তে সাউলো বলেন, ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বব্যাপী রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। নতুন করে এল নিনো ফিরে এলে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে এল নিনো শুধু আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।