
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে রমজান মাসে প্রায় সবার খাবার তালিকায় সর্বপ্রথম যে উপাদানটির নাম থাকে তা হলো খেজুর। আর খেজুরপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলো মেডজুল খেজুর। বিশেষ করে রোজার সময়, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়।
তবে এটি জেনে অনেকেই অবাক হবেন যে, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেডজুল খেজুর সরবরাহকারী দেশ হচ্ছে ইসরাইল, যা মূলত ফিলিস্তিন থেকে দখল করা জমিতে চাষ করে এই খেজুর উৎপাদন করছে। ‘নাম লুকিয়ে’ বা ভিন্ন মোড়কে এই খেজুর বিক্রি করছে ইসরাইল।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে খাওয়া মেডজুল খেজুরের প্রায় ৫০ শতাংশ আসে ইসরাইল থেকে। এদের একটি বড় অংশ চাষ হয় ফিলিস্তিন থেকে দখল করা ভূমিতে। জর্ডান সীমান্তবর্তী পশ্চিম তীরের জেরিকো এলাকায় ইসরাইলিরা বিশাল খেজুর বাগান গড়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনি এক খেজুর বিক্রেতা বলছেন, ‘এগুলো মূলত আমাদের জমি, কিন্তু তারা দখল করে চাষ করছে।’
ফিলিস্তিনি ভূমিতে চাষ হওয়ায় ইসরাইলি মেডজুল খেজুরের প্যাকেজিংয়ে কখনো ‘ইসরাইলি পণ্য’ বা ‘জর্ডান উপত্যকার পণ্য’ লেখা থাকে। ফলে মূল উৎপাদনস্থল লুকানো হয় এবং মুনাফা যায় ইসরাইলের কাছে। এই খেজুর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আরব দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী, দখল করা ভূমি থেকে আসা পণ্যকে শুধুমাত্র ‘ইসরাইলি পণ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা যথেষ্ট নয়; উৎসস্থল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তবে ইসরাইলের মেডজুল খেজুরের ক্ষেত্রে এই আইন প্রায়ই মানা হয় না। কিছু রপ্তানিকারক মধ্যবর্তী দেশ বা মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের মাধ্যমে পণ্য পুনঃপ্যাকেট করে উৎপাদনস্থল আড়াল করে ইউরোপে পাঠায়।
২০২৫ সালে বৈশ্বিক খেজুর বাজারের মূল্য ছিল ৩২.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে ৩৪.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা আছে। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ৬.১৪% ধরে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাজারের আকার ৫৫.৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের খেজুর উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৯০ লাখ টনের বেশি, যা ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারের ৮৫.২৮% দখল করে। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলের বাজারমূল্য ছিল ২৭.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ২৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার হবে। প্রধান উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলো হলো তিউনিশিয়া, ইরান, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং মিশর, যেখানে মিশরের উৎপাদন ১.৭ মিলিয়ন টনের বেশি।
যদিও ইসরাইলের উৎপাদন মিশর বা সৌদি আরবের তুলনায় কম, তবুও প্রিমিয়াম মেডজুল খেজুর রপ্তানিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। তবে উৎপাদন ও রপ্তানি পরিসংখ্যানের মধ্যে মিল না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন খেজুর রপ্তানি করে, অথচ স্বীকৃত সীমার ভেতরে উৎপাদন মাত্র ৮,৮০০ টন। যদি তথ্য সঠিক হয়, তাহলে ইসরাইলি খেজুর রপ্তানির প্রায় ৭৫% ফিলিস্তিনি দখলকৃত জমি থেকে আসতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু
