প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৮, ২০২৬, ৩:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৮, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল আজহা আজ
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
আজ বৃহস্পতিবার সমগ্র বাংলাদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। ঈদের নামাজ সমাপ্ত হওয়ার পর আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় পশু জবাই করবেন। এই উৎসবের সাথে পবিত্র হজের একটি গভীর সংযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার মক্কার নিকটবর্তী আরাফাতের প্রান্তরে একত্রিত হয়ে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হাজি হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করেছেন।
স্থানীয় হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী গতকাল বুধবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। মুজদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হাজিরা মিনায় অবস্থান করে কোরবানিসহ হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন।
কোরবানির ঐতিহাসিক পটভূমি
ঈদুল আজহার ইতিহাস হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নযোগে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কঠিন পরীক্ষা। তিনি সেই পরীক্ষায় পূর্ণ আনুগত্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, নিজের চোখ বেঁধে যখন তিনি পুত্রকে জবাই করতে গেলেন, চোখ খুলে দেখলেন আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইলের স্থানে একটি পশু কোরবানি হয়েছে। সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার স্মরণে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত হিসেবে ইসলামী শরিয়তে কোরবানির বিধান প্রবর্তিত হয়েছে এবং সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য তা ওয়াজিব।
পবিত্র কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, নামাজ এবং কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করতে। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বাসহ যেকোনো হালাল পশু কোরবানি দেওয়া যায়।
ঈদের নামাজ ও জামাত
আজ সকালে দেশের মুসল্লিরা নিকটবর্তী ঈদগাহ বা মসজিদে দুই রাকাত ওয়াজিব ঈদের নামাজ আদায় করবেন। খতিব নামাজের খুতবায় কোরবানির তাৎপর্য ও শিক্ষা তুলে ধরবেন। ধনী-দরিদ্র সকল শ্রেণির মানুষ একসাথে নামাজে শামিল হবেন এবং পরস্পরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন।
রাজধানী ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিচারপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করবেন। ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ সম্ভব না হলে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মোট পাঁচটি জামাত হবে — সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং পৌনে ১১টায়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত হবে।
ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ও দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি সমবেত হবেন।
আবহাওয়া পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, ঢাকায় বৃষ্টি সকালে না হলেও বিকেলে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুভেচ্ছা বার্তা ও বিশেষ আয়োজন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, ঈদুল আজহা ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা বহন করে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন দেশ ও বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও বেসরকারি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশুসদনে এদিন উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদের জামাতগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত