প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৬, ২০২৬, ৪:৪৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৫, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
প্যারিসে ২৫৭০ বুদ্ধবর্ষ বরণ ও বুদ্ধ জয়ন্তী উদযাপিত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে রবিবার ( ২৪ মে) ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগে সকাল ১০ টা থেকে প্যারিসের জুরিস পার্ক থেকে গার দো ইষ্ট চত্বর ঘিরে শান্তি শোভাযাত্রাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রবাসী বৌদ্ধদের মধ্যে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে।
মহামানব গৌতম বুদ্ধের অমিয় বাণী অহিংসা ও বিভেদ ভুলে শান্তিরবার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার মানসে সকাল সকাল বৌদ্ধরা পরিবার পরিজন নিয়ে প্যারিসের কেন্দ্রস্হল জুরিস পার্কে মিলিত হয় ।
পার্ক প্রাঙ্গণে বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গল বাণী পাঠের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির শুরু হওয়া অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের পিন্ডচারণ, ধর্মীয় সভা, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সসহ সারাবিশ্বের শান্তি কামনায় পুন্যদান, পূজনীয় ভান্তেদের( বৌদ্ধ ভিক্ষু) ছোয়াং গ্রহণ ,জ্ঞাতি ভোজন ও ঐতিহাসিক শান্তি শোভাযাত্রা । শান্তি শোভাযাত্রা শেষে সম্মিলিত ধ্যান অনুশীলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী বুদ্ধ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেওয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’। যেটাকে জাতিসংঘ ইন্টারন্যাশনাল ভেশাখ ডে হিসেবে ঘোষনা করেছে।
‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ– এই স্মৃতি বিজড়িত এই দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসাবে পালন করেন বুদ্ধ ভক্তরা।
এ সময় আয়োজকরা বলেন, “ মহামতি গৌতম বুদ্ধের শান্তির বাণী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশী বৌদ্ধরা সম্মিলিতভাবে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করতে পেরে তারা খুবই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। জুরিস পার্ক থেকে গার দো ইষ্ট চত্বর পর্যন্ত শান্তি শোভাযাত্রার অনুমতি প্রদান করার জন্য এ সময় তারা ফ্রান্স সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি বাংলা ভাষাভাষী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বসবাস ফ্রান্সে। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে প্রায় ১০০০০( দশ হাজার) বৌদ্ধদের বসবাস। প্যারিস ও এর আশেপাশে বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায় নিজস্ব অর্থায়নে ৯ টি স্হায়ী বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত