প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ৭:৫০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর গলা কাটতে গিয়ে গণধোলাই খেলো স্বামী
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কের ওপর মোটরবাইকে চড়ে এসে স্ত্রীর পথরোধ করে ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ফেলার চেষ্টা করেন স্বামী। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীদের তাৎক্ষণিক সাহসিকতা এবং সময়োচিত হস্তক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন ওই ভুক্তভোগী নারী।
গত বুধবার (৬ মে) দুপুরে ভারতের বেঙ্গালুরুর নেলামানগালা এলাকার দাসানাপুরায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলাকারী ব্যক্তির নাম সঞ্জয় বলে শনাক্ত করা গেছে। তিনি মূলত বিহারের বাসিন্দা। তিনি এবং তার স্ত্রী সোনালী উভয়েই এই শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
ঘটনার দিন দুপুরে সোনালী যখন নিজের ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসেন, ঠিক তখনই মাথায় হেলমেট পরা অবস্থায় মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন সঞ্জয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আকস্মিকভাবে সোনালীর পথ আটকে দাঁড়ান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সোনালীর পথরোধ করার পরপরই সঞ্জয় অত্যন্ত হিংস্রভাবে তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তার মাঝখানে নিয়ে যান। এরপর পকেট থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে সোনালীর গলায় ধরেন এবং তাকে জবাই করার চেষ্টা করেন। ব্যস্ত সড়কের ওপর এমন আকস্মিক ও ভয়াবহ দৃশ্য দেখে চারপাশের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে রাস্তার পাশে থাকা একদল সাহসী পুরুষ তাৎক্ষণিকভাবে সোনালীর সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তারা কোনো ভয় না পেয়ে সরাসরি সঞ্জয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাকে জাপটে ধরে কাবু করে ফেলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা সঞ্জয়কে গণধোলাই দেয় এবং তার হাত থেকে সোনালীকে উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।
উদ্ধার তৎপরতার সময় চারপাশে তৈরি হওয়া হট্টগোল ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে সোনালী দ্রুত নিজেকে স্বামীর খপ্পর থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান, যার ফলে একটি অবধারিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গেছে, এই দম্পতির মধ্যে গত বেশ কয়েক মাস ধরে তীব্র পারিবারিক অশান্তি চলছিল। সঞ্জয় এবং সোনালী উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। নিজেদের জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার আশায় এবং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় তারা বিহার থেকে এসে বেঙ্গালুরুতে বসবাস শুরু করেছিলেন।
তবে তাদের সেই প্রত্যাশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সঞ্জয় অতিরিক্ত মাত্রায় মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। এই চরম মদ্যপানের অভ্যাসকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া ও তীব্র বাদানুবাদ লেগেই থাকত, যা একসময় তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্রমাগত অশান্তি ও পারিবারিক বিবাদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে সোনালী সম্প্রতি সঞ্জয়ের সাথে আর একসঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সঞ্জয়ের সাথে সংসার করতে অস্বীকৃতি জানালে সঞ্জয় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন থেকেই তিনি নিজের স্ত্রীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই নৃশংস হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক পুলিশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত