প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৯, ২০২৬, ৬:২১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৯, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর ‘হাতে ১০ টাকা ধরিয়ে’ বাড়িতে পাঠাল চাচা
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আট বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. লিটন মিয়া (৪৮) উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে। সম্পর্কে তিনি ওই শিশুর চাচা হন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবা দুজনেই জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। প্রতিবন্ধী মেয়েসহ তাদের সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থাকত।
গত ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লিটন মিয়া ওই প্রতিবন্ধী শিশুকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে অভিযুক্ত লিটন মিয়ার স্ত্রী ঘটনাস্থলে চলে আসলে লিটন শিশুটিকে ছেড়ে দেয়। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায় এবং হাতে ১০ টাকা দিয়ে শিশুটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার দাদা-দাদিকে বিষয়টি জানায়। কিন্তু লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে তারা বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখেন। পরবর্তী সময়ে গত ২৬ মে ঈদের ছুটিতে শিশুটির মা-বাবা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসলে পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েটা শারীরিক প্রতিবন্ধী, ঠিকমতো চলতেও পারে না।
তার সঙ্গে এমন পশুতুল্য আচরণ করা হয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা প্রথমে মুখ খোলেননি। আমি ঢাকা থেকে ফিরে সব শুনে থানায় মামলা দায়ের করেছি। আমি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত