বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলল জাপান

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 
জাপানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক সরঞ্জামের ওপর থেকে ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। এর ফলে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার নতুন দুয়ার উন্মোচন হলো।
নতুন নীতি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে ‘অস্ত্র’ ও ‘অ-অস্ত্র’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘অস্ত্র’ শ্রেণিতে যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী সরঞ্জাম থাকবে, যা আগে রপ্তানি করা নিষিদ্ধ ছিল। তবে এই রপ্তানি কেবল জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি থাকা ১৭টি দেশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিটি রপ্তানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। তবে যেসব দেশ বর্তমানে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত, তাদের কাছে অস্ত্র রপ্তানি নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মিত্র ও সমমনা দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা গভীর করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ জাতি হিসেবে জাপানের মৌলিক প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উত্তেজনা মোকাবিলায় জাপান নিজের প্রতিরক্ষা বলয়কে শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে। এই পরিবর্তন দেশটির অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে, কারণ জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন আন্তর্জাতিক বাজারের নাগাল পাবে। সরকার ২০২৬ অর্থবছরের জন্য ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় রেকর্ড ১৮.১ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ১২-তে উন্নীত করা হবে।
জাপান সরকারের মতে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে ‘আরও অনুকূল’ নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও টোকিও একে সময়ের প্রয়োজনে কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

সর্বাধিক পঠিত